
শ্রীনগরে নানা প্রতিবন্ধকতায় মৃত প্রায় চৌধুরী রোড(কে.সি) খাল,নেউ সচলের কোন উদ্যোগ
নদী মাতৃক দেশ বাংলাদেশ,এর সাথে খাল, বিল, জলাশয়ের দেশ হিসেবেও বাংলাদেশ পরিচিত,কৃষি বান্ধব এই দেশের বর্তমান চিত্র খাল গুলো প্রায় মৃত।অবৈধ দখল,ভরাট,খাল খনন না করা,জলাধার আইন সঠিক প্রয়োগ না করা সহ নানা সমস্যার কারনে মরতে বসছে শ্রীনগরের খাল গুলো। খাল গুলোতে পানি না আসায় দেশী প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির পথে,কৃষি জমির উর্বরতা কমছে, বাড়ছে ফসল চাষে অতিরিক্ত ব্যায়,পানি না থাকায় খাল গুলোতে আগে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে বাজার গুলোতে কৃষি পন্য সহ প্রয়োজনীয় পণ্য সর্বরাহ হত ব্যায় কম ছিল,এখন তা বেড়ে দ্বীগুন,
শ্রীনগর উপজেলার চৌধুরী রোড(কে.সি)খাল টি একটি পুরনো খাল যেটি শ্রীনগর টু মুন্সীগঞ্জ রোডের বামে শ্রীনগর টু তালতলা খাল, বেলতলী জোড়াব্রীজ হয়ে মিশেছে কেয়াইন ইউনিয়ন হয়ে ধলেশ্বরী নদী পর্যন্ত যেটি উপজেলার আটপাড়া,বীরতারা,হাসাড়া ইউনিয়ন এর উপর দিয়ে বয়ে ছিল এ খাল দিয়ে একসময় ছিল পানির স্রোত,সে পানিতে থাকতো দেশী প্রজাতির মাছ,ফসলি জমিতে পানি প্রবেশের কারনে মাটি থাকতো উর্বর।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা জায় খালটি এখনো দৃশ্যমান অবস্থায় রয়েছে যেটির শুরুতেই বেলতলী মন্দিরের ভরাটের কারনে কিছুটা চিকন হয়ে গেছে সামনেই প্রভাবশালী ভূমি সিন্ডিকেট এর ব্যাক্তিরা খাল ভরাট করে ফেলেছে, উপজেলা প্রসাশন এটি তে জরিমানা সহ মামলা করলেও এখনো সরানো হয়নি সে বালু,সামনেই এগুল আরেকটি ব্রীজ যেটি খালের চওড়া থেকেও ছোট আকারে তৈরি করা হয়েছে,আরো এগুলো কিছু স্থানে চিকন হয়ে আবার চওড়া হয়ে গিয়েছে বীরতারা চান্দারটেক নামক স্থানে জায়গায় জায়গায় বাধ ও আবাসন কোম্পানির সাইনবোর্ড লাগিয়ে পাশে খালের উপর বাধদিয়ে পকেট করা হয়েছে,পাশেই রক্ষিপাড়া গ্রামের ৩বছর পূর্বে সরকারি বরাদ্দে খাল খনন করা হয়,এমন চিত্র মিলবে দয়হাটা পর্যন্ত কিন্তু ভুইচিত্র নামক স্থানে খালটিকে গিলে নিয়েছে প্রভাব শালীরা যেখানে খালের কোন চিন্হ নেই পরবর্তী স্থানে সাতগাঁও স্টান্ড হয়ে খালের জায়গা ভরাট করে করা হয়েছে খামার আরো এগুলে দেখা জায় খাল ভরে রাস্তা,বাড়ি করা হাসাড়া স্কুল রোডের পরেই আবাসন কোম্পানির দখলে একেবারে ঢাকা মাওয়া এক্সপ্রেস ওয়ে পর্যন্ত অথচ এখাল দিয়ে আগে শ্রীনগর,সিরাজ দিখান সহ বিভিন্ন স্থানের লোকেরা নৌকা দিয়ে যাতায়াত করতো।
প্রশাসনিক ভাবে এসব দখল উচ্ছেদ ও এ খাল খননের দাবি স্থানীয় কৃষকদের,সরকারি এসব খাল দখল হলেও উদ্বারে নেই সঠিক কোন উদ্যোগ।
কৃষক জয়নাল মিয়া জানান এ খালটি পাকিস্তান আমলের সে সময় খালের আয়তন চিকন ছিল, পরবর্তী তে কেসি রোড তৈরির পরে এটি চওড়া খাল হয়, আমরা এই খালটিতে ছোট থেকেই গোসল করতাম,মাছ ধরতাম,খালের পানি ধান সহ চাষাবাদে ব্যাবহার হতো,কালে কালে খালটি দখল হচ্ছে এখন মরেই যাচ্ছে,আমরা এখালটি উদ্ধার ও পুনরায় আগের রুপে দেখতে চাই
সৌখিন মাছ শিকারী দেলোয়ার হোসেন বলেন,এখাল দিয়ে স্রোত হতো বিভিন্ন মাছ আসতো পানির সাথে, আমরা এখাল দিয়ে লৌহজং সিরাজদিখানের বিভিন্ন মাছ শিকার করতে যেতাম, এখন আর খালও নেই, মাছ ধরাও হয়না।
আটপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন যেহেতু কোন খাল ভরাট পানি নিস্কাশন ব্যাবস্থা বন্ধ করা কোন ভাবেই কাম্য না, ভরাট হলে পানি নিস্কাশনে সমস্যা হবে কীর্তিক অগ্রহায়ণ মাস আসলে যেই পানি সরে জাওয়ার কথা পানি সরে না বরংচ নির্দিষ্ট সময়ে কৃষকরা চাষ করতে পারে না,এরআগে শুনেছি বিভিন্ন খাল খনন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, এটিও করা প্রয়োজন,এটি যেহেতু আন্ত খাল
এটি পত্রিকায় লেখালেখির মাধ্যমে নজরে আনলে,প্রশাসন সহ যারা এটির দায়িত্বে আছে আমাদের নজরে আনলে ও বিভিন্ন চেয়ারম্যান এর সাথে জোগাজোগ করে ডিসি বরাবর মহোদয় কে অবগত করব,বিশেষ করে রোডস এন্ড হাইওয়ের কাজের কারনে বা ব্রীজ কালভার্টের কারনে কিছু কিছু জায়গা জলাবদ্ধতা বা খালের মুখ আটকে গেছে এগুলো আমরা নির্দিষ্ট তালিকা করে সরকার বা হায়ার অথরিটির কাছে আমরা এটা তাদের নজরে আনতে পারবো এবং তাদের বরাবর সংস্কারের আবেদন করতে পারব, আমরা চাই মিডিয়ার মাধ্যমে এটি নজরে আসুক।
বীরতারা ইউপি চেয়ারম্যান গাজী শহিদুল্লাহ কামাল ঝিলু বলেন আমরা চাই কৃষি জমি উপকৃত হোক,খাল পানি নিস্কাশনের ব্যাবস্থা থাকুক।
হাসাড়া অংশে দখল হয়ে জাওয়ার বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান সোলায়মান হোসেন খান এর মুঠোফোনে একাধিক বার চেস্টা করা হলেও ফোনটি সক্রিয় পাওয়া জায়নি
এ বিষয়ে খাল, বিল, জলাশয় রক্ষা কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর খান বলেন এ খালটির বিষয়ে আমাদের কোন খনন উদ্যোগ নেই,তবে যারাই এটি দখল উচ্ছেদ এর বিষয়ে ব্যাবস্থা নিবে আমরা তাদের পাশে থাকব,প্রয়োজনে আমার জায়গা ও জদি সরাতে হয় সরিয়ে দিব,এখাল দিয় এখন আর লঞ্চ চলাচলের মতো দরকার নেই,এতে পানি আসুক নৌকা চলাচল হবে,জমি চাষে পানি ব্যাবহার হবে,এটির প্রান ফিরে আসুক।
এ বিষয়ে এম এম -হানিফ উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, সওজ , সড়ক উপ-বিভাগ,শ্রীনগর,মুন্সীগঞ্জ প্রতিবেদক কে বলেন, এটি আমাদের আওতায় কিনা সব জায়গা সার্ভেয়ার সাহেব বলতে পারবেন,একোয়ার সব জায়গা তো সেম না কোথাও খালের ফুল অংশ পরেছে কোথাও ফিফটি পরছে এটির টোটাল তথ্যটি ওনার কাছে আছে,
এত বছরে এ খালটি কোথাও দখল হচ্ছে, কোথাও ভরাট হচ্ছে, এবং স্থাপনা হচ্ছে সে ক্ষেত্রে আপনারা কি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন এটি আমাদের একটি চলমান প্রক্রিয়া অবৈধ স্থাপনা থাকলে এগুলো উচ্ছেদ এর একটি প্রক্রিয়া চলমান,
এখন সার্ভেয়ার সাহেব আমাদের কাছে রিপোর্ট করলে আমরা উচ্ছেদ এর যে প্রক্রিয়া আমরা করতে পারি,সার্ভেয়ার সাহেব কি আপনাদের কে অবগত করেনি?ওনি আমাদের কে এইরাস্তার পাশে কত ফিট রাস্তা (R H D)এর একোয়ার এখানে কিছু অবৈধ স্থাপনা আছে উচ্ছেদ এর প্রয়োজন এমন অবগত করলে আমরা ব্যাবস্থা নিতে পারি।এখানে বক্তব্যের কিছু নাই আপনি ওনার সাথে কথা বলেন।