মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় মেঘনা নদীর পাড়ে গোবর সহ ধুলাবালিতে মাখামাখি অবস্থায় প্যাকেট করা হচ্ছে রাশিয়া থেকে আমদানি করা বিএডিসির পটাশ সার। বিএডিসি বলছে, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিতে এমনটা হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সরেজমিনে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেল ৩টায় তেতৈতলা পুরাতন ফেরি ঘাট সংলগ্ন মেঘনা নদীর পাড়ে গিয়ে দেখা যায়, মেঘনা নদীর পাড়ে লাইটার ভেসেল থেকে পটাশ সার নামিয়ে খোলা আকাশের নিচে প্যাকেট করছেন কয়েকজন শ্রমিক। পাশেই গোবর ও ময়লার স্তূপ থাকলেও তা আমলে নিচ্ছেন না তারা। কর্মরত শ্রমিকরা জানান, আজ তারা প্রায় এক হাজার বস্তা সার প্যাকেট করেছেন। সারগুলোর আমদানিকারক নোয়াপাড়া গ্রুপ। প্যাকেট করার পর এই সার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হবে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মোহন মিয়াজী বলেন, “বন্ধুর সঙ্গে এখানে ঘুরতে এসে দেখি নদীর পাড়ে এভাবে উন্মুক্ত পরিবেশে ধুলাবালিতে সার প্যাকেট করা হচ্ছে। এতে সারের গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে বলে আমার ধারণা।এ সার কৃষকরা ব্যবহার করলে ফসলি জমির জন্য কতটা উপযোগী হবে তার মান নিয়ে ও প্রশ্ন।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত দৃষ্টি দেওয়া উচিত।
অপর প্রত্যক্ষদর্শী পারভেজ প্রধান বলেন, “এভাবে সার প্যাকেট করা হচ্ছে আমি সকালেই দেখিছি যখন গাড়ির ড্রাইভিং শিক্ষতে আসছি।এখনও এ ভাবেই চলতাছে। জমিতে এই সার দিলে কতটা
কাজে আসবে তাও অজানা।কর্তৃপক্ষের আরও কঠোর নজরদারি করা উচিত ছিল।যেখানে সরকার রাজস্ব ভর্তুকি দিয়ে দেশের কৃষকদের জন্য সার আমদানি করতেছে। সেখানে কিছু প্রতিষ্ঠান তাদের ইচ্ছে মতো অবৈধ পন্থা অবলম্বন করে সারের গুনগুন মান নষ্ট করে বাজারজাত করছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ফারুক শেখ নিজেকে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েট ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে বলেন, সারগুলো রাশিয়া থেকে আমদানি করা হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে লাইটার জাহাজে করে আমরা এখানে নিয়ে এসেছি। এখান থেকে প্রতি ব্যাগে ৫০ কেজি করে ভরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হবে। তবে এতে গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে কি না, তা আমি বলতে পারব না।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি সুমন ইসলাম বলেন, “আমরা সাধারণত নিয়ম মেনেই কাজ করি, তবে আজ কিছু সমস্যার কারণে হয়তো যথাযথ নিয়ম মানা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) সহকারী ব্যবস্থাপক (পরিবহন) মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “বিষয়টি আপনার মাধ্যমেই প্রথম জানলাম। এভাবে উন্মুক্ত পরিবেশে সার প্যাকেটজাত করার কোনো সুযোগ নেই। এতে সারের মান নষ্ট হয়। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাচ্ছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিষয়টি সম্পর্কে বিএডিসির ব্যবস্থাপক (পরিবহন) মোহাম্মদ খসরু নোমান বলেন, “ধুলাবালিতে সার প্যাকেট করার খবর পেয়ে আমি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে কাজ বন্ধ রাখতে বলেছি। যথাযথ নিয়ম না মানলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে শনিবার সকাল ১১ টায় সেখানে সরজমিনে আবার গিয়ে দেখা যায়,কিছু সার ট্রাকে লোড করা হচ্ছে।তাছাড়া খোলা আকাশের নিচে উন্মুক্ত স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সার গুলো কয়েক জন শ্রমিক পাশেই গবাদিপশুর বর্জ্য (গোবর) মাটি সহ ঝাড়ু দিয়ে একত্রিত করছে সঙ্গে সঙ্গে আরও দুই শ্রমিক সেগুলো বস্তুায় মজুত করছে। এখানে কোনো শ্রমিকের ছিলো না স্ফেটি প্রটেক্টর!খালি পায়ে, খালি হাতে,মুখি মাক্স ছাড়াই চালাছে কাজ।
মেঘনা নদীর তীরে খোলা আকাশে পটাশ সার রেখে সেগুলো আবার পেকেট জাত করা হচ্ছে এটা নদীর পানি এবং মাছ সহ জলজ উদ্ভিদের জন্য হুমকি কিনা এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবদুস সালাম জানায়,পটাশ সার যেহেতু রাসায়নিক এতে বিষক্রিয়া কিছুটা হবেই।তবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পানিতে পড়লে সমস্যা নেই।যদি একটি বিশেষ স্থানে একাধিক সার পরে বা মিশে তাহলে নদীর মাছের প্রজনন চক্রে ব্যহত হবে, জলজ উদ্ভিদেও কিছুটা প্রভাব পরবে।