
সাইদ হাসান আফরান: মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় রাতের আঁধারে এক ব্যক্তির জমি এক্সকাভেটর দিয়ে কেটে গর্ত করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে দাবি করে এর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জমির মালিক আব্দুল কাদির।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের পুরান চরচাষী গ্রামের নিজ কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আব্দুল কাদির দাবি করেন, ২০০১ ও ২০০৪ সালে গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের চরচাষী মৌজায় আরএস দাগ নম্বর ২১৬২, ২১৬৩, ২১৬৪ ও ২১৬৫-এর অন্তর্ভুক্ত মোট ৮ একর জমি তিনি ক্রয় করেন। জমিগুলোর কিছু অংশ নিচু ও ডোবা ছিল। পরে ২০১০ সালে বালু দিয়ে জমিগুলো ভরাট করে সেখানে বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করে আসছেন। জমিগুলো দেখাশোনার জন্য তার দুজন কেয়ারটেকার রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
আব্দুল কাদির বলেন, কয়েক দিন আগে গুয়াগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আলী আহমেদ, স্থানীয় সমাজসেবক আব্দুল খালেক মুন্সীসহ কয়েকজন গ্রামবাসী তার কাছে এসে গ্রামের সড়ক নির্মাণের জন্য জমি দেওয়ার অনুরোধ করেন। তিনি এতে সম্মতি দিয়ে জমির এক পাশ দিয়ে সড়ক নির্মাণের জন্য জায়গা মেপে নিতে বলেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সড়ক ও ড্রেন নির্মাণের জন্য প্রায় ৪০০ ফুট দৈর্ঘ্যের জায়গা থেকে ২০ ফুট প্রস্থ হিসেবে মোট ৪৫ শতাংশ জমি নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি এতে আপত্তি করেননি।
তবে পরবর্তীতে গ্রামের কয়েকটি পরিবার এ বিষয়ে বিরোধিতা করে বিভিন্নভাবে অপপ্রচার চালাতে থাকে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় আলম, সুলতান, আবু কালাম, এনাম, জহির, ইসমাইল ও মোবারকসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেন আব্দুল কাদির।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে ওই ব্যক্তিরা রাতের আঁধারে এক্সকাভেটর দিয়ে তার জমির মাঝখান দিয়ে মাটি কেটে বড় গর্ত তৈরি করেন। এতে বাধা দিতে গেলে তার কেয়ারটেকারদের মারধর করা হয় এবং তারা আহত হন বলেও দাবি করেন তিনি।
আব্দুল কাদিরের দাবি, জমির মাটি কাটার ঘটনায় তার প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এতে তিনি সামাজিকভাবেও হেয় প্রতিপন্ন হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। তার নামে ২০২৬ সাল পর্যন্ত জমির খাজনা-খারিজসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন তিনি।
এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে আব্দুল কাদির বলেন, তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ক্ষতিপূরণসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা চান।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।