
লৌহজংয়ের পদ্মায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ শিকার-যৌথ অভিযানে ১৮ জেল আটক, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কারাদণ্ড
আবু নাসের খান লিমন
ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মুন্সিগঞ্জের পদ্মা নদীতে মা ইলিশ শিকারের দায়ে ১৮ জন অসাধু জেলেকে ১০ দিন করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত টানা কয়েক ঘণ্টা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে লৌহজং ও শ্রীনগর উপজেলা প্রশাসনের এক যৌথ অভিযানে তাদের আটক করা হয়।
দেশব্যাপী মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের চলমান বিশেষ নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবে এই ঝটিকা অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযান চলাকালে পদ্মার বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে প্রায় এক লাখ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল এবং পাঁচ কেজি মা ইলিশ জব্দ করে আভিযানিক দল। পরবর্তীতে জব্দকৃত বিপুল পরিমাণ অবৈধ কারেন্ট জাল নদীর পাড়েই আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। একই সঙ্গে উদ্ধারকৃত ইলিশ মাছগুলো স্থানীয় বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।
পদ্মা নদীতে পরিচালিত এই ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা ববি মিতু এবং হাছিবুর রহমান। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইনে সাজা ঘোষণার পরপরই দণ্ডপ্রাপ্ত ১৮ জেলেকে মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
যৌথ এই অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন লৌহজং উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম, শ্রীনগর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মনোয়ারা বেগম এবং মাওয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মালেক খসরু খান।
এছাড়াও মাওয়া কোস্টগার্ডের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তারা অভিযানে সার্বিক সহায়তা প্রদান করেন। প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশের নিরাপদ বংশবিস্তার এবং জাতীয় সম্পদ রক্ষার্থে পদ্মা নদীতে প্রশাসনের এ ধরনের কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।