
আল আমিন:
গজারিয়ায় দিন দিন বাড়ছে ভুট্টা আবাদ। বাজার দর ভালো এবং কম খরচে ফলনও বেশি হওয়ায় কৃষকরা এখন ভুট্টা চাষ করছেন তাদের অনাবাদি ও পতিত জমিতে।
ভুট্টা বিক্রি করে অর্থ আয়, চারা গাছের উপরি অংশগুলো গো খাদ্য শুকনো গাছ দিয়ে জ্বালানিসহ ঘরের বেড়া বা ছাউনি কাজে ব্যবহার করা যায়।
অন্যান্য ফসলের তুলনায় সময় কম, অল্প খরচে অধিক লাভ হওয়ায় অনাবাদি জমিতেও ভুট্টার আবাদ হওয়ায় এই বছর গজারিয়ায় শতাধিক হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে।
সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলায় কয়েক বছর আগেও মাড়াই ঝাড়াইয়ের অসুবিধার কারণে ভুট্টা চাষ করতো না চাষীরা। গত কয়েক বছর ধরে সরকার কৃষিতে ভুট্টার বীজ ও সার বিতরণ করায় পাল্টে গেছে চিত্র।
জমি থেকেই ভুট্টা ১৩-১৪ শ টাকা মণ দরে বিক্রি করা যাচ্ছে। এ ছাড়াও রয়েছে ভুট্টার বহুবিধ ব্যবহার। ভুট্টা চারার গাছের (উপরি অংশ) গো-খাদ্য হিসেবে এবং শুকনো গাছগুলো জ্বালানির পাশাপাশি ঘর বাড়ির আঙ্গিনাসহ বেড়ার কাজেও ব্যবহার করা যায়।
এক বিঘা জমিতে ভুট্টার চাষ করতে খরচ হয় ৭ হাজার টাকা, ফলন পাওয়া যায় সর্বনিম্ন ৪০ মণ। ভুট্টা চাষে বড়ো সুবিধা বর্ষা আসার অনেক আগেই ফলন উত্তোলন করা যায় বলে লোকসানের আশঙ্কা থাকে না। ধানের চেয়ে পরিশ্রম কম কিন্তু লাভ বেশী, তাই ভুট্টার আবাদ বাড়ছে অত্র এলাকাতে। কম খরচে অধিক ফলন ও বাজার দর ভালো পাওয়ায় সামনের মৌসুমে এ অঞ্চলে ভূট্টার আবাদ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন কৃষকরা।
একাধিক কৃষকের সাথে কথা হলে জানা যায়, ভুট্টা চাষে লাভ বেশি। ভুট্টা চাষে ধানের চাইতে খরচ কম। এক বিঘা জমিতে ধান হয় সর্বোচ্চ ২৫ থেকে ৩০ মণ। ভুট্টা হয় ৪০ থেকে ৪২ মণ। ধানের দাম মণপ্রতি ৮ শ থেকে ৯শ টাকা। ভুট্টার মণ ১ হাজার টাকা। তাই যারা ধান চাষ করতো, তারা এখন ভুট্টা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে।
উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পরামর্শ ও ভুট্টা চাষের জন্য বীজ সার বিতরণ করায় ভুট্টার চাষ করে কৃষকরাও লাভবান হচ্ছে। ভুট্টার ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদেরও আগ্রহ বেড়েছে ভুট্টা চাষে।
এ বিষয়ে গজারিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার ফাইসাল আরাফাত বিন সিদ্দিক বলেন, এ বছর ১৭৭০ হেক্টর জমিতে এ পর্যন্ত ভুট্টার আবাদ হয়েছে। আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১৭৭০ হেক্টর জমিতে