
ছোট শিশু আফসার হোসেনের জন্ম নোয়াখালী জেলার, সুবর্ণচর সদর উপজেলার, আনসুমিয়ার হাট ইউনিয়নের, সুবর্ণচর গ্রামে।২০১২ সালে সিদ্দিক আহমদ ও জেসমিনের ঘর আলোকিত করে জন্মগ্রহণ করেন ছোট শিশু আফসার হোসেন। তার বেড়ে ওঠা নোয়াখালীর সুবর্ণচর গ্রামে, তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৭ জন এর মধ্যে আফসার হোসেন পরিবারের বড় ছেলে, সে নোয়াখালীর চরভাটা রাম গোবিন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র। তার আট বছর বয়সি ছোট ভাই এবং বড় তিন বোন রয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান কালীন সময়ে আফসার হোসেননোয়াখালী থেকে ঢাকায় আসেন তার বড় বোনের বাসায় বেড়াতে। ঢাকায় এসে সে ছাত্র-জনতার গণঅভুত্থানের সময় আওয়ামী লীগ সরকারের চালানো দমনপীড়ন ও ব্যাপক গন হত্যাকান্ড দেখে আবেগ আপ্লূত হয়ে পড়েন। তখন ছোট্ট শিশু আফসারের মনে প্রশ্ন জাগলো সেও এই আন্দোলনে যুক্ত হয়ে দেশ স্বাধীন করবে। সেই চিন্তাভাবনা থেকে ৫ আগস্ট,আন্দোলনে যুক্ত হয়ে প্রতিবাদ করেন সে, বিকেল ৪ টার দিকে আজমপুর, উত্তরা এলাকায় কাঁধে গুলি লাগে তার। এটা ছাত্রলীগের কাজ ছিল নাকি পুলিশের, তা আমি বলতে পারব না, ২০ এপ্রিল দৈনিক মুন্সিগঞ্জের বার্তাকে এ সকল বিষয়ে বর্ণনা দেন আফসার হোসেন।
৫ ই আগস্ট, ছোট শিশু আফসার হোসেনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আজিমপুর,উত্তরা থেকে উদ্ধার করেন আন্দোলনে আসা একদল শিক্ষার্থী, তখন তারা আফসার হোসেনের এই অবস্থা দেখে নিয়ে যায় প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ ফর উইমেন অ্যান্ড হাসপাতালে, সেখানে এক রাত ছিল সে। পরদিন সকালে, অর্থাৎ ৬ আগস্ট, তারা নিটোর হাসপাতালে আসেন। ৭ আগস্টে আমাদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। চিকিৎসার খরচ কীভাবে মেটালাম, সেটা আল্লাহ জানেন। আমার মেয়ে ও তার স্বামী এবং আমি আমাদের সোনা বিক্রি করেছি চিকিৎসার খরচ চালানোর জন্য, এই বিষয়ে বললেন আক্তারের মা।
২০ সেপ্টেম্বর, নিটোর হাসপাতালে ভর্তি গুলিবিদ্ধ রোগীদের দেখতে আসেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুস। “আমি তাকে দেখেছি,” আফসার হোসেন বলে, “তিনি আমার কাঁধে হাত রেখেছিলেন। গুলিতে আফসার হোসেনের একটি জয়েন্ট ছিঁড়ে গেছে। আফসারের মা জেসমিন এক্সরে রিপোর্ট দেখিয়ে বলেন, গুলি এদিক দিয়ে ঢুকে, ওই পাশ দিয়ে বের হয়ে গেছে। তিনি জানান, ডাক্তাররা তার ২০ বছর বয়স হওয়ার আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেছেন, তখন অপারেশন করে জয়েন্টটি ঠিক করা যাবে। আর এর আগ পর্যন্ত? থেরাপি, দিতে বলেছেন। কিন্তু পুরোপুরি সুস্থ হতে হলে অপারেশনের প্রয়োজন বলে জানায় আফসারের মা জেসমিন।
সে আরো বলেন আফসার এখনও পুরোপুরি হাঁটাচলা করতে না পারলেও কিছুটা উন্নতি হয়েছে তার। বর্তমানে আফসার হোসেন জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান নিটোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
আসিফ বাঁধন