
স্টাফ রিপোর্টার
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরের বীরতারা বাজারে নৈশপ্রহরীদের বেঁধে কাপড়ের দোকানে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনার প্রায় দুই মাস পর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
একই সঙ্গে লুণ্ঠিত মালামাল ও ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যান উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার সকালে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে ডাকাত দলের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন মুন্সিগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম।
পুলিশ সুপার জানান, গত বছরের ১৯ নভেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে শ্রীনগর থানাধীন বীরতারা বাজারে একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল হানা দেয়। ডাকাতরা বাজারের নৈশপ্রহরী শামীম মিয়া ও শওকত শেখকে মারধর করে হাত-পা ও মুখ বেঁধে দোকানের পাশে ফেলে রাখে। পরে তারা ‘মায়ের দোয়া বস্ত্রালয়’ ও ‘আব্দুল্লা ফ্যাশন হাউজ’ নামের দুটি কাপড়ের দোকানের শাটার ভেঙে প্রায় ৬ লাখ টাকার কাপড় ও নগদ টাকা লুট করে একটি পিকআপ ভ্যানে করে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর মামলা দায়ের হলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে ঘটনায় জড়িত ডাকাত মো. রাজিব বেপারী ও মো. সুজনকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়।
তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার সকালে নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা থেকে মো. হাবিব ওরফে জসিম এবং লুণ্ঠিত মালামাল রাখার অভিযোগে মো. জাহিদ হোসেন ওরফে পারভেজকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে জাহিদের ঢাকার শ্যামপুর এলাকার একটি দোকান থেকে লুণ্ঠিত ২০টি লুঙ্গি, ১৯টি শাড়ি, ২৬টি থ্রি-পিস, ১৭টি গামছা ও ১৩০ গজ থান কাপড় উদ্ধার করে পুলিশ।
এছাড়া ডাকাতিতে ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যানটি (ঢাকা মেট্রো ন-২৩-২২৮৯) জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, ডাকাত চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।