
অনিক শেখ:
টংগিবাড়ি উপজেলার অন্তর্গত আড়িয়লের বিখ্যাত ব্যাঘ্রবীর শ্যামাকান্তর কড়ই গাছ আজও কালের স্মৃতি বহন করছে। এই কড়ই গাছের নিচেই ছিল বীর শ্যামাকান্তের ক্লাব এবং এখানেই শুরু হয় তার বাল্যকালের শারীরিকচর্চার মাধ্যমে কুস্তিচর্চা।
প্রায় ১৬০ বছরের পুরোনো টঙ্গীবাড়ি উপজেলার আড়িয়ল ইউনিয়নের সরকার বাড়ি শ্যামাকান্তর কড়ই গাছটি। গাছটি নিয়ে রয়েছে নানান কৌতুহল এবং পুর্ণিমা রাতে রক্তক্ষরণসহ ভয়ংকর ভয়ংকর গল্প। তবে সবটাই কাল্পনিক বলে দাবি করেন স্থানিয় প্রবীণরা। গাছটির ডালপালা ছাতার ন্যায় চারদিকে ছড়িয়ে পরেছে। পরগাছাযুক্ত ডালে ডালে রয়েছে টিয়া, ময়নাসহ বিভিন্ন ধরনের পাখির বাসা। শেকড় ছরিয়ে পরেছে আসপাসের অন্যগ্রাম গুলোতে। এই গাছটির চারোপাশে বাগানসহ রয়েছে আরো পুরোনো পুরোনা অনেক গাছ। তাই লোকমুখে বলা হয় এটি আড়িয়লের ফুসফুস।
দেশবিদেশে এই গাছ নিয়ে রয়েছে কৌতুহল। এর কারণ যানতে চাইলে মো. হৃদয় বেপাড়ি জানান- আমার দাদার কাছে শুনেছি তিনিও ছোট থেকে গাছটি এমনি দেখছেন এবং আমিও এমনি দেখছি। মো. মাহফুজুর রহমান সুজন বলেন- ব্যাঘ্রবীর শ্যামাকান্ত / সোহং স্বামী (পূর্বাশ্রমের নাম শ্যামাকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়।) আড়িয়ল গ্রামে জন্ম নেয়া একজন ভারতীয় যোগী ও অদ্বৈত বেদান্তের গুরু। প্রথম জীবনে তিনি একজন কুস্তিগীর ছিলেন। বাঘের সাথে কুস্তির খেলা দেখিয়ে তিনি জনপ্রিয় হয়েছিলেন। পরে হিমালয়ে তিব্বতীবাবার শিষ্যত্ব গ্রহণ করে যোগ সাধনা করতে থাকেন। নৈনিতাল ও হরিদ্বারে তিনি দুটি আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। প্রখ্যাত বিপ্লবী যতীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় তার শিষ্যত্ব গ্রহণ করে নিরালম্ব স্বামী নাম নেন। ১৯১৮ সালের ৫ ডিসেম্বর প্রয়াত হন সোহং স্বামী ওরফে ‘ব্যাঘ্রবীর শ্যামাকান্ত’। তিব্বতীবাবা তার দেহাবশেষ বর্ধমান জেলার পালিতপুর আশ্রমে নিয়ে আসেন ও তার সমাধি স্থাপন করেন।