
৫০ বছরের পুরনো প্রায় অর্ধশত গাছ বিক্রির অভিযোগ স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে
স্টাফ রিপোর্টার
মুন্সীগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলার পুরা দুর্গা চরণ উচ্চ বিদ্যালয়ের নামে লিজকৃত জমি থেকে প্রায় ৫০ বছরের পুরনো ৩৫ থেকে ৫০টি গাছ কেটে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি কিংবা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই এসব গাছ কেটে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দারা। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি কোনো ধরনের প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়াই অনৈতিকভাবে বিশালাকার বিভিন্ন প্রজাতির কাঠ ও ফলাদি গাছগুলো কেটে ফেলা হয়েছে। এসব গাছ প্রচন্ড খরায় তাদের ছায়া দিয়ে সুরক্ষা দিত। পাশাপাশি মাটি খুঁড়ে গাছের শিকড় অপসারণের কারণে পুকুরের পাশের ঘরবাড়ী ও যাতায়াতের রাস্তা ভেঙে পড়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে বলে জানান তারা। হঠাৎ করে এতগুলো গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় তারা বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ। তাদের আরও অভিযোগ, নিয়মবহির্ভূত ভাবে গাছ কাটার সময় বাধা দিলে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তার অনুগত কিছু ছাত্রছাত্রীকে ব্যবহার তাদের ওপর হামলা চালান ও ভয়ভীতি সৃষ্টি করে।
এ বিষয়ে টংগিবাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ওয়াজেদ ওয়াসিফ জানান, “তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং গাছগুলো কাটা অবস্থায় দেখতে পেয়েছেন। তবে কার নির্দেশে গাছগুলো কাটা হয়েছে সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।” গাছগুলো কারা কিনে নিয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “জামাল(পিতা: মৃত আলাউদ্দিন), আবু সাইদ, আলামিন(পিতা: আবুল কালাম ছৈয়াল)।” এছাড়া বিদ্যালয়ের দপ্তরি মজিবুর রহমান ও জড়িত থাকতে পারেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানান তিনি। ভূমি অফিস থেকে লিজ নেওয়া জমির গাছ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক স্কুল কর্তৃপক্ষ বা প্রশাসনের কোন অনুমতি ছাড়া কাটতে পারবে কিনা জানতে চাইলে তিনি স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি তথা ইউএনওর কাছ থেকে বিষয়টি জানার জন্য বলেন।
ঘটনার বিস্তারিত জানতে চাইলে টংগিবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া মমতাজ জানান, তিনি অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং সত্যতা যাচাই করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রদের ব্যবহার করে স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর হামলার অভিযোগের বিষয়ে লিখিত কোন অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
পরবর্তীতে টংগিবাড়ী উপজেলা বন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করতে তার কার্যালয়ে গেলে অফিস কক্ষ তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। এছাড়া অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য জানতে তাকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ ঘটনায় স্থানীয়রা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।