কৃষক মোঃ লাল মিয়া মোল্লা জানান, তিনি খরিয়া চরে ৮ একর জমিতে বারি-৯ জাতের চিনাবাদাম চাষ করেছেন। গাছের বয়স বর্তমানে প্রায় ১৩০ দিন। তিনি আশা করছেন, আরও ১৫-২০ দিনের মধ্যে ফসল উত্তোলন করা যাবে এবং ফলন ভালো হবে।
আরেক কৃষক মোঃ আবু আলী বলেন, তিনি প্রায় ৫০০ শতাংশ জমিতে বাদাম চাষ করেছেন। এ পর্যন্ত তার খরচ হয়েছে প্রায় ৪ লাখ টাকা। সেচ ও উত্তোলন ব্যয়সহ মোট খরচ কিছুটা বাড়লেও তিনি আশা করছেন, ফসল বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা আয় করতে পারবেন।
কৃষক বাদশা শেখ বলেন, তিনি ৪০০ শতাংশ জমিতে বাদাম চাষ করে ইতোমধ্যে ভালো ফলনের আশা দেখছেন। তবে নদী ভাঙন না হলে আগামী বছর আরও বেশি জমিতে বাদাম চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, কুমারভোগ ইউনিয়নের খরিয়া ব্লক ও খরিয়া চরে প্রায় ১২ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ হয়েছে। কৃষি বিভাগের উদ্যোগে প্রদর্শনী ও প্রণোদনার মাধ্যমে কৃষকদের বারি-৯ জাতের বীজ সরবরাহ করা হয়েছে। এই জাতের বাদামে পোকামাকড়ের আক্রমণ তুলনামূলক কম এবং সেচের প্রয়োজনও কম হয়। গত বছরের তুলনায় এ বছর উৎপাদন বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
লৌহজং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ হাসান উদ দৌলা বলেন, চরাঞ্চলের অনাবাদি জমিকে চাষের আওতায় আনতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে। খরিয়া চরে প্রায় ১২ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ হয়েছে, যা এলাকার কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। কৃষকদের প্রয়োজনীয় উপকরণ ও সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে। তিনি জানান, আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে বাদাম উত্তোলন শুরু হবে এবং এ বছর প্রায় ৪৫ মেট্রিক টন উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সাবিকুর নাহার সাবরিনা, কৃষি সহকারী কর্মকর্তা ইয়াকুব আলী, নাজমুল ইসলামসহ স্থানীয় কৃষকরা।
সার্বিকভাবে, নতুন জাত ‘বারি চিনাবাদাম-৯’ চাষে কম খরচে বেশি ফলনের সম্ভাবনা থাকায় কৃষকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। চরাঞ্চলের অনাবাদি জমি কাজে লাগিয়ে এই চাষ ভবিষ্যতে স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন ।