লৌহজংয়ে ইউপি সদস্য প্রত্যাহারের দাবিতে ডিসি বরাবর গণস্বাক্ষর
মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় এক বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় আপোষের অভিযোগে কলমা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন দোকানদার হিরণের প্রত্যাহারের দাবিতে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) বরাবর গণস্বাক্ষরসহ লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এলাকাবাসী।
রবিবার (৩ মে) দুপুরে মুন্সিগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মৌসুমি মাহবুবের কাছে এ অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক অভিযুক্ত প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
লিখিত অভিযোগে এলাকাবাসী জানান, কলমা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন দোকানদার হিরণ দীর্ঘদিন ধরে অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন বিষয়ে বেআইনি সালিশ-বিচার পরিচালনা করে আসছেন। গত ২১ এপ্রিল কলমা ইউনিয়নের বাশিরা এলাকার এক ১৬ বছর বয়সী বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়।
অভিযোগে বলা হয়, এ জঘন্য ঘটনার পর অভিযুক্ত প্যানেল চেয়ারম্যান মাত্র ৩৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে ঘটনাটি প্রমাণিত হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ধর্ষক বর্তমানে কারাগারে রয়েছে।
এমন একটি গুরুতর ও প্রমাণিত ঘটনার ক্ষেত্রে একজন জনপ্রতিনিধির এ ধরনের ভূমিকা তার নৈতিকতা ও আইনগত যোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এলাকাবাসীর মতে, এটি আইন, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
অভিযোগপত্রে জেলা প্রশাসকের কাছে কয়েকটি দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো—অভিযুক্ত প্যানেল চেয়ারম্যানকে অবিলম্বে সাময়িক বরখাস্ত করা
তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে স্থায়ীভাবে অপসারণ করা
ভুক্তভোগী পরিবারকে পূর্ণ নিরাপত্তা প্রদান করা
ভবিষ্যতে এ ধরনের অনৈতিক ও বেআইনি কর্মকাণ্ড রোধে কঠোর প্রশাসনিক নজরদারি নিশ্চিত করা
উল্লেখ্য, এর আগে অভিযুক্তের বিচারের দাবিতে গত ২৪ এপ্রিল কলমা বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করেন স্থানীয়রা। পরে ২৬ এপ্রিল কলমা লক্ষ্মীকান্ত স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন হাওলাদার আবুল কাশেম, শওকত হোসেন সবুজ ফকির, মো. রুবেল শেখ, শেখ মো. মামুন, মো. হামীম, মো. মকবুল হোসেনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।