
অনিক শেখ, টঙ্গীবাড়ী প্রতিনিধি ।
মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার কামারখাড়ায় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ব্যানার টানানোকে কেন্দ্র করে এক যুবককে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মাহবুব আলম (২৬) টঙ্গীবাড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কামারখাড়া এলাকার বাসিন্দা মামুন পেয়াদা, ইকবাল পেয়াদা, অভিন পেয়াদা ও অভিক পেয়াদাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করা হয়েছে। মাহবুব আলম অভিযোগ করেন, গত ২৭ মে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের শুভেচ্ছাবার্তাসংবলিত একটি ব্যানার টানানোর সময় অভিন পেয়াদা বাধা দেন এবং ব্যানার না নামালে মারধরের হুমকি দেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ৩০ মে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের নামে ব্যানার টানানোর সময়ও একই ব্যক্তিরা বাধা দেন। এ সময় ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা এবং তাকে মারধরের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ঘটনার ধারাবাহিকতায় ১ জুন দুপুরে কামারখাড়া এলাকায় আগে টানানো একটি ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়। এর প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে আহত করেন। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে তাঁরা খুন-জখমের হুমকি দিয়ে চলে যান।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় মাহবুব আলম টঙ্গীবাড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মাহবুব আলম বলেন, “আমি বিভিন্ন জনের ব্যানার টানানোর কাজ করি। আগে মামুন পেয়াদার ব্যানারও টেনেছি। এবার আলামিন মাল আমাকে ব্যানার টানানোর কাজ দেন। সেই কাজ করায় আমাকে মারধর করা হয়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
কামারখাড়া ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি আল আমিন মাল অভিযোগ করে বলেন, “পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আমি একটি শুভেচ্ছা ব্যানার তৈরি করি। ওই ব্যানারে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং বিএনপির বিভিন্ন নেতার ছবি ছিল। আমার নির্দেশে এক কর্মী ব্যানারটি টানাতে গেলে মামুন পেয়াদা ও তার সহযোগীরা তাকে মারধর করে এবং ব্যানারটি ছিঁড়ে ফেলে। এছাড়া মামুন পেয়াদা আমাকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি এবং প্রশাসন ও বিএনপির নেতাকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করছি।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মামুন পেয়াদা বলেন, “আমি ব্যানার টানাতে বাধা দিইনি। শুধু ফলজ গাছে পেরেক না মারতে বলেছি। সুতা দিয়ে বেঁধে দিতে বলেছিলাম। আমার কথা না শুনে উল্টো খারাপ আচরণ করায় আমি তাকে একটি থাপ্পড় দিয়েছি। পরে সে আমাকে মারতে এলে আমার ছেলে আরেকটি থাপ্পড় দেয়।”
টঙ্গীবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম আহমেদ অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”