
মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জমির মুন্সি নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে দলীয়ভাবে চাপে পড়েছেন। অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে উপজেলা বিএনপি। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বহিষ্কারসহ কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের রামানন্দ গ্রামে এক নারীর সঙ্গে একান্তে অবস্থানকালে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করেন। পরে উত্তেজিত জনতা তাকে সিরাজদিখান থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
জমির মুন্সি উপজেলার মোল্লাকান্দি গ্রামের মরহুম তাহের আলী মুন্সির ছেলে। তিনি বালুচর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ও মামলা রয়েছে। সর্বশেষ এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বালুচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেন বলেন, “জমির মুন্সি আমাদের ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে পরে মন্তব্য করব।”
সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলাউদ্দিন বলেন, “ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সিরাজদিখান উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম. হায়দার আলী বলেন, “নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। বালুচর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিবকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারও প্রতি অন্যায় না হয়, সেটিও নিশ্চিত করা হবে। তবে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দলীয় সূত্র জানায়, তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর জমির মুন্সির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বহিষ্কারের সম্ভাবনাই বেশি বলে সংশ্লিষ্ট নেতারা ইঙ্গিত দিয়েছেন। বর্তমানে ঘটনাটি নিয়ে পুরো সিরাজদিখানের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।