
ইঞ্জিনিয়ার মোঃ শাহিদুল হাসান শাওন
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক উপাচার্য এবং মুন্সিগঞ্জের বিক্রমপুরের কৃতি সন্তান প্রফেসর ড. মোশাররফ হোসেন (এম. এইচ.) খানের নামাজে জানাজা শেষে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর ইঞ্জিনিয়ার্স, আর্কিটেক্টস অ্যান্ড প্ল্যানার্স সোসাইটি।
বুধবার (৮ জুলাই) বাদ জোহর বুয়েট কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা শেষে সোসাইটির নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা মরহুমের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে তাঁকে ঢাকার আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের আহ্বায়ক ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. মোবারক হোসেন, উপদেষ্টা ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের (PGCB) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী গাউস মহিউদ্দিন, উপদেষ্টা ও ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশের (আইইবি) সহকারী সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আহসানুল রাসেল, যুগ্ম সদস্য সচিব ও স্মার্ট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) প্রকৌশলী মো. শাহিন হোসেন এবং যুগ্ম সদস্য সচিব ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী তানভীর মাহমুদুল হাসান। এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিপুলসংখ্যক প্রকৌশলী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
উল্লেখ্য, প্রফেসর ড. এম. এইচ. খান গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভোর ৪টায় রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। তাঁর পৈতৃক নিবাস মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামে।
১৯৩৩ সালের ১৭ জুলাই জন্মগ্রহণকারী প্রফেসর ড. মোশাররফ হোসেন খান বাংলাদেশের প্রকৌশল শিক্ষা, গবেষণা ও উচ্চশিক্ষা প্রশাসনের অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন। তিনি আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (বর্তমান বুয়েট) থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর যুক্তরাষ্ট্রের Texas A&M University থেকে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি সম্পন্ন করেন।
১৯৫৬ সালে আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে তিনি দীর্ঘ শিক্ষকতা, গবেষণা ও একাডেমিক নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশের প্রকৌশল শিক্ষায় অসামান্য অবদান রাখেন। ১৯৮৭ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত তিনি বুয়েটের পঞ্চম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং একাডেমিক পরিবেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
পরবর্তীতে তিনি আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (AUST) প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক কাঠামো, পাঠ্যক্রম, শিক্ষক নিয়োগ, গবেষণা কার্যক্রম এবং আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা সুসংগঠিতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশের প্রকৌশল শিক্ষার বিকাশে তাঁর অসামান্য অবদান এবং অসংখ্য প্রকৌশলী, শিক্ষক ও গবেষক গড়ে তোলার ভূমিকা বাংলাদেশের শিক্ষা ইতিহাসে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর ইঞ্জিনিয়ার্স, আর্কিটেক্টস অ্যান্ড প্ল্যানার্স সোসাইটির নেতৃবৃন্দ মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।