
১৯৭৫ সালের এই দিনে ভারত, বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকছি তাদের গঙ্গা নদীর উপর ফারাক্কা বাঁধ চালু করে।
আশরাফ ইকবাল:
আজ ২১ এপ্রিল ২০২৫, সোমবার। ৮ বৈশাখ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ। গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি অনুসারে বছরের ১১১তম (অধিবর্ষে ১১২তম) দিন। বিশ্ব সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবন (ক্রিয়েটিভিটি অ্যান্ড ইনোভেশন) দিবস আজ যা ” বৈশ্বিক লক্ষ্য ” নামেও পরিচিত। মানব সভ্যতার আরও সৃজনশীল বিকাশ এবং জাতিসংঘ ঘোষিত স্থিতিশীল লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নতুন উদ্ভাবনকে অনুপ্রাণিত করতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গৃহীত প্রস্তাব অনুযায়ী ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের ২১ এপ্রিল থেকে প্রতিবছর এ দিবস পালন করা হচ্ছে।
সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনে বাংলাদেশের অবস্থান
মানুষের নিজস্ব কিছু প্রতিভা থাকে। কেউ বই লিখে, কেউ ছবি আঁকে, আবার কেউ গবেষণায় নতুন কিছু আবিষ্কার করে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকেন। তাদের যুগ থেকে যুগান্তরে মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। তাদের সৃজনশীলতা কাজে লাগিয়ে আমাদের দৈনন্দিন জীবন সহজ হয়। বিখ্যাতদের সৃষ্টি দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেকে আবার নতুন কিছু আবিষ্কার করার স্বপ্ন দেখেন। এভাবেই সৃষ্টি হয় নতুন কিছুর, পৃথিবী দেখে অভিনব সব আবিষ্কার।
উন্নত দেশগুলোয় দেখা যায়, তারা জাতীয় বাজেটের একটা বিশাল অংশ গবেষণার খাতে ব্যয় করে থাকে। বিভিন্ন গবেষণাগারে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি, বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবগুলো আধুনিকায়নসহ অন্য সংস্থাগুলোকে সরকারিভাবে সাহায্য করে থাকে। এতে গবেষক ও উদ্ভাবকরা অনুপ্রাণিত হয়ে সৃজনশীলতার প্রতি গুরুত্ব দেন। ফলে তারা বিশ্বে খুব ভালো আবিষ্কার দেখাতে সক্ষম হন। তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশ গবেষণা ও উদ্ভাবনে বেশ পিছিয়ে।
আমাদের দেশে গবেষণাকর্মে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাব রয়েছে। সুযোগ-সুবিধার অভাবে গবেষণাকাজে সৃষ্টি হয়েছে অনীহা। অনেকে আবার নতুন কিছু উদ্ভাবন করে সেটি থেকে সঠিক মূল্যায়ন না পেয়ে সরে যাচ্ছেন সীমাবদ্ধ কোনো চাকরির পেশায়। এসব প্রতিকূলতার জন্য উদ্ভাবনী শক্তিতে বিরূপ চিন্তাভাবনা সৃষ্টি হচ্ছে।
খুব অচিরেই এসব সমস্যার সমাধান করে আমাদের দেশের মানুষের সৃজনশীলতা কাজে লাগাতে হবে, বিজ্ঞান শিক্ষা ও গবেষণায় সরকারি আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও উদ্ভাবনে উৎসাহিত করতে হবে।
বিশ্ব সৃজনশীলতা এবং উদ্ভাবন দিবসের ইতিহাস:
২৫ মে ২০০১ সালে কানাডার টরন্টোতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বিশ্ব সৃজনশীলতা এবং উদ্ভাবন দিবস। সেই দিনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন কানাডিয়ান মারসি সেগাল। সেগাল ১৯৭৭ সালে সৃজনশীলতার আন্তর্জাতিক কেন্দ্রের সৃজনশীলতায় অধ্যয়নরত ছিলেন।
২১ এপ্রিল বিশ্ব সৃজনশীলতা এবং উদ্ভাবন দিবসকে পর্যবেক্ষণের দিন হিসাবে সংঘবদ্ধ করার জন্য জাতিসংঘ ২৭ এপ্রিল ২০১৭ সংকল্প করেছে।
‘কানাডা ইন ক্রিয়েটিভিটি ক্রাইসিস’ শীর্ষক শিরোনামটি যখন জাতীয় পোস্টে উপস্থিত হয়েছিল, তখন তিনি বিশ্ব সৃজনশীলতা এবং উদ্ভাবন দিবস উদ্যাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সুতরাং জাতিসংঘ মানব বিকাশের সব ক্ষেত্রে সৃজনশীলতা এবং উদ্ভাবনের ভূমিকার সচেতনতা বাড়াতে ২১ এপ্রিলকে বিশ্ব সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবন দিবস হিসেবে মনোনীত করেছে।
সময় গড়ায় তার নিজস্ব নিয়মে, সমৃদ্ধ হয় মানবসভ্যতা। বিভিন্ন ঘটনা-দুর্ঘটনা, মনীষী কিংবা সাধারণের জন্ম-মৃত্যুর মাধ্যমে ধীরে ধীরে তৈরি হয় ইতিহাস, উন্মোচিত হয় জগতের নতুন নতুন দিগন্ত। বছরের পর বছর পেছনে ফিরে তাকালে ঠিক আজকের এই দিনে এমন অনেক ঘটনা, অনেক আলোচিত সমালোচিত ব্যক্তির জন্ম-মৃত্যু জানতে পারি আমরা। তাই ইতিহাসের দিনপঞ্জি মানুষের কাছে সবসময় গুরুত্ব বহন করে। এই গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব এ দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।
ঘটনাবলি:
৭৫৩ – রোম নগরীর প্রতিষ্ঠা। ৮২৯ – সেক্সশান এগবার্ট ব্রিটেনের প্রথম রাজা হিসেবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। ১৫২৬ – পানিপথের প্রথম যুদ্ধ। ১৯৫২ – লন্ডন ও রোমের মধ্যে প্লেন চালনার মাধ্যমে বিশ্বের প্রথম জেট প্লেন চলাচল শুরু। ১৯৬২ – আলজেরিয়ায় ফরাসি সেনা বিদ্রোহ শুরু। ১৯৭৫ – ভারতের ফারাক্কা ব্যারেজ চালু। ২০১৯ – শ্রীলঙ্কায় গির্জা হোটেলে ও মসজিদে ধারাবাহিক বোমা হামলার ঘটনায় কমপক্ষে ২৯০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
জন্ম:
১৭৮২ – জার্মান শিক্ষাবিদ ও কিন্ডারগার্টেন শিশুশিক্ষা পদ্ধতি প্রবর্তক ফ্রেডরিক ফ্রোয়েবল। ১৮১৬ – ইংরেজ ঔপন্যাসিক ও কবি শার্লট ব্রন্টি। ১৮২৮ – হিপোলালিটি টেইনি, প্রখ্যাত ফরাসী শিল্পী, সাহিত্যিক এবং ঐতিহাসিক। ১৮৬৪ – মাক্স ভেবার, জার্মান সমাজবিজ্ঞান, দার্শনিক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী। ১৮৮৯ – পল কারার, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী রাশিয়ান-সুইস রসায়নবিদ এবং শিক্ষাবিদ। ১৯০০ – বিশিষ্ট বাঙালি বিজ্ঞানী ও চিকিৎসক সুধীরনাথ সান্যাল। ১৯১৫ – অ্যান্থনি কুইন, মার্কিন চলচ্চিত্র ও মঞ্চ অভিনেতা। ১৯২২ – অ্যালান ওয়াটকিন্স, ওয়েলশ-ইংলিশ ক্রিকেটার। ১৯২৬ – দ্বিতীয় এলিজাবেথ, যুক্তরাজ্য ও অন্যান্য অধিভুক্ত অঞ্চলের রানী। ১৯৪৫ – শ্রীনিবাসরাঘবন ভেঙ্কটরাঘবন, ভারতীয় ক্রিকেটার এবং আম্পায়ার। ১৯৬৬ – সঙ্গীতশিল্পী ও সুরকার মাইকেল ফ্রান্টি। ১৯৭৯ – জেমস ম্যাকঅ্যাভয়, মার্কিন অভিনেতা। ১৯৯২ – ইস্কো, স্পেনীয় ফুটবলার।
মৃত্যু:
১৯১০- স্যামুয়েল ল্যাঙ্গহোর্ন ক্লিমেন্স (মার্ক টোয়েইন) একজন মার্কিন রম্য লেখক, সাহিত্যিক ও প্রভাষক। ১৯৩৮ – আল্লামা ইকবাল, পাকিস্তানের প্রখ্যাত কবি, দার্শনিক এবং রাজনীতিবিদ। ১৯৬৫ – এডওয়ার্ড ভিক্টর অ্যাপলটন, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ইংরেজ পদার্থবিজ্ঞানী। ১৯৮৪ – মোহাম্মদ মোদাব্বের, সাংবাদিক, শিশুসাহিত্যিক ও বিশিষ্ট সমাজ সেবক। ২০১৩ – শকুন্তলা দেবী, একজন ভারতীয় লেখক এবং মানব ক্যালকুলেটর। ২০১৫ – পূর্ণদাস বাউল, ভারতীয় বাঙালি বাউল গান শিল্পী। ২০১৫ – জানকীবল্লভ পট্টনায়ক, একজন রাজনীতিবিদ এবং ওড়িশার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। ২০১৭- লাকী আকন্দ, বাংলাদেশি একজন সঙ্গীতশিল্পী ও সুরকার। ২০২১- শঙ্খ ঘোষ, বাঙালি কবি ও সাহিত্য সমালোচক।