
অনিক শেখ:
আলু উৎপাদনের অন্যতম শীর্ষ জেলা মুন্সীগঞ্জে আলু এখন কৃষকের গলার কাটা। হিমাগারে আলু রাখার জায়গা না পেয়ে সস্তায় আলু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। টঙ্গীবাড়িতে আলুর বাম্পার ফলনের পরও কৃষকের মুখে হাসি নেই। হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করতে না পারা এবং ন্যায্য দর না পাওয়ায় ঘাম ঝড়ানো সোনার ফসলই গলার কাটা। আলু রাখার মত যায়গা বাড়িতে না থাকায় জমিতেই গোলা বেধে রাখতে বাধ্য হচ্ছে কৃষক। এখনও তেমন বৃষ্টি না হলেও বৃষ্টি হলে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় আলুর গোলায় পানি প্রবেশে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জমিতে আলু বিক্রি হচ্ছে ১২ থেকে ১৪ টাকায়। আর তাদের উৎপাদন খরচ পরেছে অন্তত ১৮ থেকে ২২ টাকা। তাই পুঁজি হারানোর শঙ্কায় কৃষক। আর এর সুযোগ নিয়েছে আগে হিমাগারের কোটা কিনে রাখা মধ্য স্বত্যভোগীরা। এতে প্রান্তিক কৃষক পরেছেন বিপাকে। এ অবস্থায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় হিমাগার চালু এবং জরুরি ভিত্তিতে আলু বিদেশে রফতানির দাবি তাদের। উপজেলার আড়িয়ল বাজারে আলু ক্রয় করতে আসা এক ভোক্তা জানান আলুর বাজার ধস নেমেছে। আমাদের দেশে এই বছর আলু বেশি হয়েছে, বিদেশে রপ্তানি করতে পারলে কৃষক সঠিক মুল্য পাবে।
উপজেলা কৃষি কৃষি কর্মকর্তা জয়নুল আলম তালুকদার জানান, উপজেলায় ২৭ টি হিমাগার রয়েছে, এর মধ্যে ২৩ টি হিমাগার সচল রয়েছে। এদের ধারণ ক্ষমতা হচ্ছে ২ লক্ষ ২৫ হাজার ৯০ মেট্রিক টন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়নুল আলম তালুকদার জানান- উপজেলায় ১১ হাজার ১৯ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ হয়েছে। আলুর ফলন ভাল হওয়ায় ২ লক্ষ ৭৯ হাজার ৬ গ ১৮ মেট্রিক টনের চেয়েও বেশি উৎপাদন হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।