
আসিফ বাঁধন :
কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প। মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প টি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও নানাবিধ সমস্যার কারণে আজ বিলুপ্তির পথে।
এক সময়ে মাটির জিনিসপত্র তৈরিতে কুমারপাড়ায় মৃৎশিল্পীরা ব্যস্ত সময় কাটাতেন। তারা তৈরি করতেন রান্না ও গৃহস্থালি বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন রকমের হাঁড়ি-পাতিল, সরা, থালা, বাটনি, দোনা, ঝাঁজর, মটকি, চাড়ি, কোলকি, কড়াই, কুয়ার পাট, মাটির ব্যাংক, শিশুদের জন্য রকমারি নকশার রঙিন পুতুল, খেলনা ও মাটির তৈরি রঙিন পশুপাখি, ফুলেরপাত্র
পানি বর্জ্য জল পাইপ, ইট, বিভিন্ন ভাস্কর্যসহ আরো অন্যান্য। এখন আধুনিক কোটাহন অ্যালুমিনিয়াম, আধুনিক কাঁচ, সিরামিক, মেলামাইন ও প্লাস্টিকের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে এই শিল্পটি। খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করছেন এ পেশার জড়িতরা।
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বয়রাগাদী ইউনিয়নের মৃৎশিল্পীদের সাথে কথা বললে তারা বলেন, এক সময় মাটির তৈরির রকমারী দিয়েই মানুষের পরিবারের চাহিদা পূরণ হতো। তখন আমরা এসব পণ্য পাইকারী ও পরিবার নিয়ে ভাইচরটা বেচিলতে পারতাম। কিন্তু এখন প্লাস্টিক ও অ্যালুমেনিয়াম, সিরামিক্স-এর চাপে আমরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছি।
সিরাজদিখান উপজেলার বয়রাগাদী ইউনিয়নের বুইড়া পালপাড়ার সত্যপাল (৫০) বলেন, এখন আমরা বিভিন্ন পূজাপার্বণে তৈরির পাশাপাশি মাঠে দিনমজুরি কাজ করে যা রোজগার করি তা দিয়ে সংসার চালাই।মৃৎশিল্প আগের মতো না চলায় বাধ্য হয়ে মৃৎশিল্প নির্ভর গুটিয়ে নিয়েছি। আগে মৃৎশিল্প নির্ভর করে জীবিকা চলত। আমরা ৩০ টি পরিবার বসবাস করলেও প্রায় ২০টির বেশি পরিবার তাদের বংশীয় পেশা ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশা শুরু করেছে।
সিরাজদিখান উপজেলার রশুনিয়া ইউনিয়নের কুমার পাড়ার বাবুপাল বলেন, একসময় জমি থেকে অল্প টাকা দিয়ে এঁটেল মাটি ক্রয় করতে পারতাম। তবে এখন দেশে বেড়েছে ইটের ভাটা। যার কারণে মাটি সংগ্রহ করাটাও হাতের নাগালের বাইরে হয়ে গেছে। অথচ মাটির তৈরি জিনিসপত্রের দাম তুলনামূলক বাড়েনি। এই জন্য বেশি দামে মাটি ও খড়ি কিনে এইসব জিনিসপত্র তৈরি করে আগের মতো লাভ হয় না। তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে হারিয়ে যাওয়া এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব বলে মনে করছেন স্থানীয় এসব মৃৎশিল্পীরা।