
বর্ষন মোহাম্মদ:
আজ ৮ মে বিশ্ব রেডক্রিসেন্ট দিবস। প্রতিবছর এইদিনে সারা বিশ্বে রেডক্রিসেন্ট দিবস পালিত হয়। দেশে দেশে নানা কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে সারাবিশ্বে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিশ্ব রেডক্রিসেন্ট দিবস পালনে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
১৮২৮ সালের ৮ মে জন্ম হয় আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির প্রতিষ্ঠাতা হেনরি ডুরান্টের। তিনিই প্রথম নোবেল পুরস্কার পান। তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই ৮ মে দিনটি বিশ্ব রেডক্রস দিবস হিসেবে পালন করা হয়। বিশ্বজুড়ে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে মানুষকে সাহায্য করা, চিকিৎসার ব্যবস্থা, শিশু ও মহিলাদের সবরকমভাবে সাহায্য করা, সংকটের সময় পানীয় জল, খাবার পৌঁছে দেয়াসহ নানা কাজ করেন রেডক্রসের সদস্যরা। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে রেডক্রসের বড় ভূমিকা ছিল। রেডক্রসের ১৪তম আন্তর্জাতিক সম্মেলনে একটি আন্তর্জাতিক কমিশন গঠন করা হয়। ১৯৩৪ সালে এই কমিটি রিপোর্ট পেশ করে। রেডক্রসের ১৫তম আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এই রিপোর্ট গৃহীত হয়। বিশ্বজুড়ে এই রিপোর্টের সুপারিশগুলো কার্যকর করার কথা বলা হয়। কিন্তু এরই মধ্যে বেধে যায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। ১৯৪৬ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর রেডক্রস কমিশনের রিপোর্ট কার্যকর হয়। ১৯৪৮ সালের ৮ মে রেডক্রস দিবস পালনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।
রেডক্রিসেন্ট দিবসে বিশ্বজুড়ে এই সংগঠনের কাজকর্ম, নীতি-আদর্শের বিষয়াদি প্রচার করা হয়। সংকটের মুহূর্তে পাশে থাকার জন্য সারা বিশ্বের মানুষ রেডক্রসের সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। রেডক্রসের সদস্যরা সাতটি নীতি মেনে চলেন। এগুলো হলো মানবিকতা, পক্ষপাতহীন আচরণ, স্বাধীনতা, স্বেচ্ছাশ্রম, ঐক্য ও সার্বিকতা। দিবসটি উপলক্ষে সকালে সংস্থাটির সদরদপ্তরে নানা আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন করা হয়। পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে দিবসটির উদ্বোধন করা হয়।
১৯৭৫ সালের বাংলাদেশে ১৫টি বিদ্যালয় নিয়ে জুনিয়র রেডক্রস কার্যক্রম শুরু হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে ১৯৭৮ সালে যুব রেডক্রস গঠন করা হয়। যা বর্তমানে যুব রেডক্রিসেন্ট নামে পরিচিত।
বাংলাদেশের প্রশাসনিক জেলায় ৬৪টি ও ৪টি সিটি কর্পোরেশনে ৪সহ মোট ৬৮টি ইউনিট রয়েছে যার মাধ্যমে রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি সারাদেশব্যাপী নানাবিধ জনসেবা ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। মানবতার কল্যাণে রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি স্বাভাবিক সময়ে ও প্রতিটি দুর্যোগে ৬৮টি ইউনিট এর স্বেচ্ছাসেবক ও কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় বিপন্ন মানবতার কল্যাণে গণমানুষের সেবায় সর্বদা নিয়োজিত থাকে। রেড ক্রিসেন্টের এর সদস্যগণ সর্বক্ষণ মানুষের প্রয়োজনে নিজেদেরকে নিয়োজিত রাখে।
অসহায় ও দরিদ্রদের মাঝে আর্থিক সাহায্য, বন্যাকালীন সময়ে উদ্ধার কাজ থেকে শুরু করে ক্রাণ বিতরণে রেড ক্রিসেন্টের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। করোনা আবহে বিশ্বজুড়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন রেডক্রসের সদস্যরা। করোনা পরীক্ষা, চিকিৎসার ব্যবস্থা, করোনায় মৃতদের শেষকৃত্যের ব্যবস্থাসহ নানা দুর্যোগকালীন সহযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছেন রেডক্রিসেন্ট সদস্যরা।