
সাফায়াত রহমান তুষারের কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই—পরিবারের দাবি
স্টাফ রিপোর্টার
লৌহজং উপজেলায় জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক যুবককে মিথ্যাভাবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতা পরিচয় দিয়ে গ্রেপ্তারের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ওই যুবক সাফায়াত রহমান তুষার কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। বরং ব্যক্তিগত জমি বিরোধকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ লৌহজং উপজেলার বৌলতলী ইউনিয়ন শাখার একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটির কাগজ আমাদের হাতে এসেছে। ওই কমিটিতে সভাপতি হিসেবে তাওহীদুর রহমান তুষার-এর নাম উল্লেখ রয়েছে। অথচ প্রশাসনের কাছে যেই কমিটির তালিকা উপস্থাপন করা হয়েছে, সেখানে সভাপতি হিসেবে লেখা হয়েছে সাফায়াতুল রহমান তুষার-এর নাম। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো—উভয় কাগজেই সভাপতির স্বাক্ষরের জায়গায় স্বাক্ষর রয়েছে তাওহীদুর রহমান-এর।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি কুচক্র মহল ইচ্ছাকৃতভাবে কমিটির কাগজে নাম পরিবর্তন করে পুলিশকে বিভ্রান্ত করেছে। ওই বিভ্রান্তিকর কাগজের ভিত্তিতেই পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে সাফায়াত রহমান তুষারকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করে।
জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিণ চারগাঁও গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেনের সঙ্গে বাড়ির পাশের একটি খাল ও রাস্তার জমি নিয়ে পার্শ্ববর্তী শরিকদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বিষয়টি একাধিকবার উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর উদ্যোগে মীমাংসা হলেও প্রতিপক্ষ সেই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট না হয়ে নতুন করে বিরোধ উসকে দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, প্রশাসনের দেওয়া মীমাংসা অমান্য করে প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে মোফাজ্জল হোসেনের ছোট ছেলে সাফায়াত রহমান তুষারকে ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে আখ্যা দিয়ে পুলিশ দিয়ে বাড়ি থেকে তুলে নেয় এবং মিথ্যা পরিচয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
দক্ষিণ চারগাঁও এলাকার একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, সাফায়াত রহমান তুষার কখনোই কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন না। তাদের ভাষ্য, নামের মিলকে পুঁজি করে এবং জমি বিরোধের জেরে তাকে রাজনৈতিক পরিচয়ে ফাঁসানো হয়েছে।
এ বিষয়ে লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, আমাদের কাছে একটি তালিকা আছে যেখানে বলা হয়েছে তিনি ছাত্রলীগ করেন। তার বাবা আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড সদস্য—এমন তথ্যও এসেছে। অনেকেই জানিয়েছে তিনি ছাত্রলীগের সভাপতি। তবে সাংবাদিকদের মাধ্যমে আরেকটি কমিটির তালিকা পেয়েছি, যেখানে স্বাক্ষর একই থাকলেও নামের কিছু পার্থক্য রয়েছে। বিষয়টি আমরা গভীরভাবে তদন্ত করছি। যদি তদন্তে দেখা যায় তিনি কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন, তাহলে তাকে মুক্তির ব্যবস্থা করা হবে। যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে, দ্রুত তা সংশোধন করা হবে।