মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী সড়ক দূর্ঘটনার নিহতের ঘটনায় ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ।
শনিবার সকাল সাড়ে ৭ টায় উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নের গজারিয়া সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ এর অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী শ্রাবণী(১৪) সহ তানিশাহ(১৩) সপ্তম শ্রেণী এবং ফাতেহা(১৩)সপ্তম শ্রেনী প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞান মেলায় অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে স্কুলের প্রধান ফটকের সামনে মহাসড়ক পারাপারের উদ্দেশ্যে ঢাকাগামী লেনে পাশে দাড়িয়ে থাকলে দ্রুত গ্রতির স্টার লাইন বাসের ধাক্কায় নিহত হয় অষ্টম শ্রেণির শ্রাবণী(১৪)।
শ্রাবণীর বাড়ি উপজেলার চর বাউশিয়া গ্রামের হানিফ মিয়ার মেয়ে।গজারিয়া টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের ,তানিশাহ(১৩) সপ্তম শ্রেণী, ফাতেহা(১৩)সপ্তম শ্রেনী
প্রতক্ষদর্শীরা জানায়, আজ তাদের প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞান মেলা ছিল,সে জন্য তারা অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে বিদ্যালয়ের ফটকের সামনে রাস্তা পার হবার জন্য দাড়িয়ে থাকলে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকাগামী লেনের তাকে চাপা দেয়।
এ ঘটনার শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে স্টার লাইনের একাধিক বাসে ভাংচুর করে,সে সঙ্গে ৬টি বাস তাদের স্কুলে এন্ড কলেজ ক্যাম্প আছে আটক রাখে।শিক্ষার্থীদের বক্তব্য এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভির ফুটেজের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে ঘটনা ঘটিয়েছে স্টার লাইন বাস।
ঘটনার পরপর ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে দেয় ঐ প্রতিষ্ঠানের ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।সকাল নয়টা থেকে বেলা ১১ পর্যন্ত ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের গজারিয়া অংশের প্রায় ১৩ কিলোমিটার রাস্তার কুমিল্লা গামী লেনে জ্যাম সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে গজারিয়া থানা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি গজারিয়া আর্মি ক্যাম্পে সেনাবাহিনীও কাজে নিযুক্ত হয়ে উত্তেজিত শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে আনে।
এ বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা,সেনা কর্মকর্তা,থানার ও হাইওয়ে কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা ৮ দফা দাবি জানায়।উল্লেযোগ্য দাবি গুলো হলো গজারিয়া সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ-এর ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী শ্রাবণী হত্যায় শিক্ষার্থীদের দাবি সমূহ:শ্রাবনী হত্যায় অভিযুক্ত বাস ড্রাইভারকে গ্রেফতার ও উপর্যুক্ত শাস্তির আওতায় আনতে হবে।ক্ষতিপূরণ হিসাবে ০৩ (তিন) দিনের মধ্যে শ্রাবনীর পরিবারকে এক কোটি টাকা দিতে হবে।রোট্স এন্ড হাইওয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীকে আজ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ফুট ওভার ব্রীজ এক মাসের মধ্যে তৈরির প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিষ্ঠান বরাবর ১টি বাসস্ট্যান্ড, জেব্রা ক্রসিং, স্প্রিড ব্রেকার সহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।শিক্ষার্থীদের রাস্তা পারাপারের নিরাপত্তার জন্য ফুট ওভার ব্রীজ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সকাল ০৭:০০ ঘটিকা থেকে বিকাল ৪:০০ ঘটিকা পর্যন্ত একজন ট্রাফিক পুলিশকে দায়িত্ব প্রদান করতে হবে।শিক্ষার্থীদের চলাচলের সুবিধার্থে প্রতিষ্ঠানের পার্শ্বে সংযোগ সড়ক মাটি দিয়ে ভরাট করতে হবে।
ভবেরচর বাসস্ট্যান্ড হতে কলেজ পর্যন্ত মহাসড়কের উভয় পার্শ্বে ফুটপাত রাস্তা তৈরি করতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম প্রাথমিক অবস্থান তাদের একাধিক দাবি বাস্তবায়ন করবে বলে আশ্বাস প্রদান করেন।
গজারিয়া টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান জানায়,আমার শিক্ষার্থী মারা গেছে।শিক্ষার্থীরা আমার সন্তান। আমার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদেন দাবি গুলো বাস্তবায়ন হোক।দ্রুত ঘাতক ড্রাইভার কে আইনের আওতায় আনা হোক।শ্রাবনীরপরিবারকে আর্থিক সাপোর্ট দিতে হবে।
গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার আলম আজাদ জানান,আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কাজ করেছি।তারপর শিক্ষার্থীদের আশ্বাস প্রদান করেন দ্রুত ঘাতক গাড়ির ড্রাইভার কে আইনের আওতায় আনা হবে।