বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেছেন, রাজনৈতিক হীন স্বার্থে অতীতে বিভিন্ন সময়ে সংখ্যালঘু এবং সংখ্যাগুরু বলে বিভাজনের চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু এ ধরনের বিভাজন কোনো জাতি বা রাষ্ট্রের জন্য শুভ নয়।
বুধবার সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার কনকসার মালোপাড়া সার্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপে উপজেলা ভিত্তিক কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশেও দুর্গাপূজা হচ্ছে। সেখানে এ উৎসবে অসুর রূপে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বাংলাদেশের অন্তবর্তীকালীন সরকার প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনুসকে প্রতিমায় চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে এমন হিংসা-বিদ্বেষ নেই। এখানে সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু বলে কোনো বিভাজন থাকবে না।”
ড. রিপন আরও বলেন, “আমরা শান্তিপ্রিয় জাতি। সকল ধর্মের মানুষ একে অপরের সাথে বন্ধনে আবদ্ধ। আগামীতে বিএনপি সরকার ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে এলে বাংলাদেশে কোনোভাবেই সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপন করা সম্ভব হবে না। হিন্দু-মুসলমানসহ সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করবে।”
এ সময় তিনি আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য ও প্রতিবেশী ভারতের ভিসা জটিলতার বিষয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “আগে বাংলাদেশের অনেক মানুষ চিকিৎসার জন্য ভারতে যেত, এখন ভিসা বন্ধ করে দিয়েছে। আবার অনেক সময় তারা আমাদের পণ্য আমদানি বন্ধ করে দেয়। অথচ বাংলাদেশি হিন্দুরা কখনো ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অসুর রূপে চিহ্নিত করেনি। কারণ এটা আমাদের জাতির চরিত্র নয়।”
পরে তিনি ঝাউটিয়া রৎখোলা দুর্গাপূজা মণ্ডপসহ একাধিক পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন—কনকসার মালোপাড়া পূজা মণ্ডপের সভাপতি শ্রী অশোক কুমার মালো, সাধারণ সম্পাদক শ্যামল বর্মন, লৌহজং উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মনোজ কুমার সিংহ, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট বিপ্লব সাহা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিনয় কুমার মালোসহ স্থানীয় পূজার আয়োজন কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।