দুর্গা পূজা বাঙালি হিন্দু সমাজের অন্যতম প্রধান উৎসব। এই সময়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ বিভিন্ন মণ্ডপে পূজা দেখতে আসেন। ফলে জনসমাগম, যানজট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুষ্ঠু রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় নানা নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা। এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল স্ট্রাইকিং ফোর্স। এরা দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল, চলনশীল এবং সুপ্রশিক্ষিত একটি বাহিনী যারা যেকোনো সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রস্তুত। এই বছর টংগিবাড়ি উপজেলায় ৫২ টি পূজা মন্ডপে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের চৌকষ কর্মকর্তাদের দিয়ে স্ট্রাইকিং ফোর্সের কাজ সফলভাবে চলেছে।
দুর্গা পুজা উপলক্ষে স্ট্রাইকিং ফোর্সের মূল দায়িত্বসমূহ হলে যেকোনো হঠাৎ ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলা, দাঙ্গা, সংঘর্ষ, বা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্ট্রাইকিং ফোর্স দ্রুত সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে করে । গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিতে পরিদর্শন :
সংবেদনশীল মণ্ডপ, বিসর্জন ঘাট, এবং ভীড়পূর্ণ এলাকায় নিয়মিত পরিদর্শন করে নিরাপত্তা জোরদার করে। সন্ত্রাস ও নাশকতা প্রতিরোধ:পূজাকে কেন্দ্র করে কোনো সন্ত্রাসবাদী হুমকি থাকলে স্ট্রাইকিং ফোর্স তা দমন বা প্রতিরোধে তৎপর ভূমিকা পালন করে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সহায়তা:বড় বড় পূজা মণ্ডপে প্রবেশ ও বাহিরের রাস্তাগুলোতে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি প্রয়োজনে বিকল্প রুট পরিচালনায় তারা পুলিশকে সহায়তা করে। দুর্যোগকালীন উদ্ধারকাজে সহায়তা যেমন—হুড়োহুড়িতে আহত ব্যক্তি উদ্ধার, অগ্নিকাণ্ডে সহায়তা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ।
সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তার আস্থা জন্মায়। অপরাধমূলক কার্যকলাপ কমে যায়।পূজা উদযাপন শৃঙ্খলাপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল হয়।প্রশাসনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। এবারের স্ট্রাইকিং ফোর্স দুর্গা পূজার সময় একটি নির্ভরযোগ্য এবং শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয়ের কাজ করেছে। তাদের সাহসিকতা, তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং দক্ষতা দুর্গা পূজাকে সফলভাবে সম্পন্ন করতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। এদের অবদান নিঃসন্দেহে প্রশংসার যোগ্য।
ভবিষ্যতে স্ট্রাইকিং ফোর্সের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য আরও উন্নত প্রশিক্ষণ, যন্ত্রপাতি, এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা উচিত।