
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া এখন শুধুই একটি উপজেলা নয়, এটি যেন ৫৪ বছরের অপেক্ষা শেষে পাওয়া এক স্বপ্নপূরণের নাম
স্টাফ রিপোর্টার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুন্সিগঞ্জ-৩ (গজারিয়া-সদর) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন মো. কামরুজ্জামান রতন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৬৯১ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন পেয়েছেন ৮৮ হাজার ৯৩৬ ভোট। অর্থাৎ ৩৫ হাজার ৭৫৫ ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
এর আগে সর্বশেষ ১৯৭৩ সালে গজারিয়ার সন্তান কেএম শামছুল হুদা এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর আবারও গজারিয়ার কোনো কৃতী সন্তান জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন—এ আনন্দে ভাসছে পুরো উপজেলা।
গজারিয়া অংশেই ধানের শীষের পক্ষে দেখা গেছে ব্যাপক সমর্থন। সেখানে কামরুজ্জামান রতন পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৮৬৬ ভোট, বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী পেয়েছেন ২০ হাজার ৪৯২ ভোট। শুধু গজারিয়া অংশেই লিড দাঁড়িয়েছে ২৬ হাজার ৩৭০ ভোট।
ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বঞ্চনার ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও এবারের নির্বাচনে দল-মত নির্বিশেষে গজারিয়াবাসীর ঐক্য ছিল চোখে পড়ার মতো। জেলা সদর থেকে নদী বিভক্ত এই উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৫০ হাজার ৩৩০ জন; অন্যদিকে সদর উপজেলায় ভোটার ৩ লাখ ৫৯ হাজার ১৩৭ জন। নদীর এপার-ওপারের বৈষম্যের অভিযোগ বহু পুরোনো—তবে এবারের জয়কে স্থানীয়রা দেখছেন ‘নতুন যুগের সূচনা’ হিসেবে।
জেলা রিটার্নিং অফিসার সৈয়দা নুরমহল আশরাফী বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেন। ১৬৯টি ভোটকেন্দ্র ও ১টি পোস্টাল ব্যালট কেন্দ্রসহ মোট ১৭০টি কেন্দ্রের ফলাফলের ভিত্তিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৮২ হাজার ৪৬৯টি। বাতিল হয়েছে ৬ হাজার ৪১৮ ভোট। প্রদত্ত ভোটের হার ৫৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
এই আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সুমন দেওয়ান পেয়েছেন ৬ হাজার ৩৯২ ভোট। বাংলাদেশ লেবার পার্টির আনিছ মোল্লা পেয়েছেন ২৯৪ ভোট, জাতীয় পার্টির আরিফুজ্জামান দিদার পেয়েছেন ৮০৪ ভোট। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির শেখ মো. কামাল হোসেন পেয়েছেন ৩০৪ ভোট এবং বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ মো. শিমুল পেয়েছেন ১১৪ ভোট।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছিল উৎসবের আমেজ। রাত থেকেই গজারিয়া উপজেলাজুড়ে দেখা যায় বিজয়োল্লাস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দনের বার্তায় ভরে ওঠে টাইমলাইন।