
আল আমিন
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার প্রায় তিন লক্ষ মানুষের একমাত্র সরকারি চিকিৎসা ভরসা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি বর্তমানে চরম চিকিৎসক ও জনবল সংকটে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব, ল্যাব টেকনোলজিস্ট ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীর সংকটে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা। এতে প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চক্ষু, অর্থোপেডিক সার্জারি, জেনারেল সার্জারি ও নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এছাড়া চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ পদে একজন চিকিৎসক থাকলেও তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেষণে কর্মরত। ফলে এসব বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বাধ্য হয়ে ঢাকাসহ আশপাশের জেলায় ছুটতে হচ্ছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন হওয়ায় গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের আনা হয়। পাশাপাশি উপজেলায় গড়ে ওঠা অসংখ্য শিল্প-কারখানার কারণে স্থায়ী বাসিন্দাদের সঙ্গে বিপুল সংখ্যক অস্থায়ী শ্রমিকও এই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু বিশাল জনগোষ্ঠীর তুলনায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা অত্যন্ত অপ্রতুল।
গত রোববার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল সাড়ে ১১টার মধ্যেই আউটডোরে রোগীর সিরিয়াল ৩২০ ছাড়িয়ে গেছে। টিকিট সংগ্রহকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ লাইন ও রোগীদের মধ্যে অসন্তোষ লক্ষ্য করা যায়।
চিকিৎসা নিতে আসা জাহানারা বেগম (৫০) বলেন,
“ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও ঠিকমতো ডাক্তার দেখানো যায় না। আবার হাসপাতাল থেকে সব ওষুধও পাওয়া যায় না।”
হাসপাতালে ভর্তি রোগী সহিদ মিয়া জানান, রোগীর তুলনায় চিকিৎসকের সংখ্যা খুবই কম। সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় রোগীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
চিকিৎসকের পাশাপাশি লজিস্টিক সাপোর্টেও রয়েছে মারাত্মক ঘাটতি। অনুমোদিত ৩ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র একজন। ফলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা যথাসময়ে করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া আয়া ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীর সংকটে হাসপাতালের পরিবেশ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এছাড়া ও গজারিয়া ইউনিয়নের উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতেও একই চিত্র বিরাজ করছে। একটি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে একজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, একজন ফার্মাসিস্ট ও একজন অফিস সহায়ক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে সবগুলো পদই শূন্য। এছাড়া একটি মিডওয়াইফ পদায়ন থাকলেও তিনি ঢাকায় প্রেষণে থাকায় এলাকার গর্ভবতী নারীরা প্রয়োজনীয় মাতৃসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ বিষয়ে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডাঃ শারমিন আহমেদ তিথি বলেন,“আমি দায়িত্ব নেওয়ার পরই যে সব পদে ঘাটতি রয়েছে, সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করেছি। কর্তৃপক্ষ আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। নির্বাচনের পর এসব শূন্য পদ পূরণের চেষ্টা করা হবে। সীমাবদ্ধতার মাঝেও আমরা সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।”
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও সহায়ক জনবল নিয়োগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।