
হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের প্রথম সমাবর্তন
সনদ পেলেন ১,৭৫৪ জন গ্রাজুয়েট
স্টাফ রিপোর্টার
জাঁকজমকপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাসে এ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ ও বিভাগের মোট ১ হাজার ৭৫৪ জন শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ডিগ্রি প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে কৃতিত্বপূর্ণ একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে স্বর্ণপদক ও বিশেষ সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এ এফ এম খালিদ হোসেন। সমাবর্তন ভাষণে তিনি দেশের উচ্চশিক্ষা ও সামাজিক অবক্ষয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, ‘স্টুডেন্ট পলিটিক্সের নামে দুর্বৃত্তায়ন বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসা শিক্ষার্থীর প্যাকেট করা লাশ আর দেখতে চাই না।’ তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরে আমাদের সফলতা যেমন আছে, তেমনি ব্যর্থতাও রয়েছে। এখন সময় এসেছে আত্মসমালোচনার মাধ্যমে ভালো মানুষ হওয়ার।
গ্রাজুয়েটদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও নৈতিকতা দিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী করে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আধুনিক রিসার্চ সেন্টার গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবর্তনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন।
এছাড়া বক্তব্য দেন হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক ড. হাকীম মো. ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান, ভাইস-চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. মনজারুল আলম।
বক্তারা বলেন, হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন শুধু শিক্ষার্থীদের সাফল্য উদযাপন নয়; বরং নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে মানসম্মত উচ্চশিক্ষার গুরুত্ব নতুন করে তুলে ধরেছে।
সমাবর্তন উপলক্ষে গ্রাজুয়েট ও তাদের স্বজনদের উপস্থিতিতে ক্যাম্পাসজুড়ে দিনভর উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। আনন্দ ও উচ্ছ্বাসে মিলনমেলায় পরিণত হয় পুরো ক্যাম্পাস।