
গজারিয়া প্রতিনিধি:
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার উপজেলার ভাটি বলাকী গ্রাম সংলগ্ন খালে জোয়ারের পানির তোড়ে ভেসে গেছে প্রায় শতাধিক গরু। একের পর এক ভেসে উঠছে মরা গরু এ যেনো এক মত্যুপুরীতে রূপ নেয়। এতে বিশাল ক্ষতির মুখে পড়েছে ঐ চরের কৃষকরা। ভুক্তভোগীদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে গ্রামের পরিবেশ।
শনিবার সকালে গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল হক মিঠু ছুঁটে যায় হোসেন্দি ইউনিয়নের নদী বেষ্টিত গ্রাম ভাটি বলাকি এলাকায় কৃষকদের মাঝে।মনিরুল হক মিঠু জানায়,এমন মর্মাহত ঘটনা কারো জীবনে না আসুক।সকাল বেলাই ছুটে,আসছি এ খবর শোনার পর।গরু হারিয়ে ভেঙে পড়েছে পরিবার গুলো।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও আশরাফুল আলম ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারে তথ্য জানতে চেয়েছেন।সরকারি ভাবে যতটুকু সম্ভব তাদের পাশে থাকবেন।
তাছাড়া মনিরুল হক মিঠু জানায়,তিনি যতটুকু সম্ভব সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে ইউএনও’র মাধ্যমে তাদের পাশে থাকতে।ইউনিয়ন পরিষদ থেকেও তাদের পাশে থাবেন বলে আশ্বাস দেন।
প্রসঙ্গ,গেল শুক্রবার (২৩ মে) বিকাল ৪টার দিকে মেঘনা নদীর শাখা নদী, হোসেন্দী ইউনিয়নের ভাটি বলাকী গ্রাম সংলগ্ন খালে এই ঘটনা ঘটে । এ ঘটনায় ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকার মত আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকদেরা।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, কৃষক মহসিনের ৪টি, নাহিদের ৩টি, ইয়ানূরের ৩টি, এমার ২টি, মাসুমের ১টি, আবুল হোসেনের ৩টি, শাহজালালের ৩টি, কবির হোসেন খানের ৩টি, শরিফ শরিফ হোসেনের ৩টি, তরিকুল ইসলামের ২টি সহ শতাধিক গরু পানির তোড়ে ভেসে যায়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, আজকের দিনটি আমাদের গ্রামবাসীর জন্য একটি দুঃখের দিন হয়ে থাকবে। আমাদের গ্রামের অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। সবারই গরু রয়েছে। ভাটি বলাকী গ্রাম সংলগ্ন চরে খাস খাইয়ে গরুগুলো লালন-পালন করে সবাই। গ্রাম এবং চরের মধ্যে ছোট একটি খাল রয়েছে। খাল পাড়ি দিয়ে চরে গিয়ে ঘাস খেয়ে প্রতিদিন বিকালে গরুগুলো আবার গোয়ালে ফিরে আসে। শুক্রবার (২৩ মে) বিকালে খাল পাড় হবার সময় হঠাৎ জোয়ারের পানির তোড়ে এবং কচুরিপানার চাপে শতাধিক গরু ভেসে যায়। এর মধ্যে বিকাল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত ৪১টি মৃত গরু উদ্ধার করা হলেও এখনো পর্যন্ত প্রায় ৬০টির মত গরু নিখোঁজ। লক্ষ লক্ষ টাকা ক্ষতির মুখে পড়ে কৃষকরা পাগল প্রায়’।