
মোঃ খায়রুল ইসলাম হৃদয়
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গজারিয়া অংশে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের কোটি কোটি টাকা মূল্যের সরকারি জমি অনুমোদন ছাড়াই বালু ভরাট করে দখল নিচ্ছে একটি প্রভাবশালী দখলদার গুষ্টি। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাতের আঁধারে দিব্বি অব্যাহত রয়েছে বালু ভরাট কার্যক্রম।
উপজেলার টেংগারচর ইউনিয়নের নতুন রাস্তা সংলগ্ন ভাটেরচর মৌজায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় একটি দালাল চক্রের সহায়তায় রাতের বেলা ড্রেজার বসিয়ে বালু ফেলা হচ্ছে সওজ ও জনপদের । দখল হওয়া জায়গাটি মূলত সড়ক ও জনপথ বিভাগের মালিকানাধীন, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫/৬ কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম জেলার বাসিন্দা মোহাম্মদ বদিউল আলম নামক ব্যক্তি স্থানীয় আবু বক্কর মোল্লার কাছ থেকে ভাটেরচর মৌজায় বি.এস. ৪৪৮০, ৪৪৮১ ও ৪৪৮২ দাগে সাড়ে ২৩ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। তবে, তিনি ওই অংশ ভরাট করতে গিয়ে অতিরিক্তভাবে সওজের প্রায় ১ থেকে ১.৫ বিঘা জমিও দখল করে ফেলেছেন।
এ বিষয়ে বড়ইকান্দী ভাটেরচরের বয়োজ্যেষ্ঠ আলী হোসেন বলেন,মাত্র সাড়ে ২৩ শতাংশ জমি কিনে দেড় বিঘার বেশি জমি ভরাট করে নিচ্ছে, অথচ কেউ কিছু বলছে না! এটা খুবই দুঃখজনক।
একই এলাকার স্থানীয় যুবক মুক্তার হোসেন বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কয়েকদিন আগে এসে কাজ বন্ধ করে দেন। এরপর থেকেই তারা শুধু রাতের বেলা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। দিনের বেলায় আবার ড্রেজারের পাইপ খুলে রাখে যেন কাউকে সন্দেহ না হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল আলম বলেন,আমি খবর পেয়ে সরেজমিনে গিয়ে বালু ভরাট কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। এরপরও যদি তারা রাতের আঁধারে কাজ করে, তাহলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেব।
নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম বলেন,আমরা কাউকে কোনো অনুমোদন দিইনি। যারা সরকারি জমি দখল করেছে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মোহাম্মদ বদিউল আলমের মেয়ের জামাই ও স্থানীয় দলিল লেখক মাসুম বিল্লাল বলেন,আমরা সড়ক ও জনপথ বিভাগের কাছে বন্দোবস্ত চেয়ে আবেদন করেছি। আশা করছি শিগগিরই অনুমোদন পেয়ে যাব।
সড়ক ও জনপথের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি জমি দখলের এমন ঘটনা শুধু রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতিই নয়, বরং এটি আইনের প্রতি চরম অবজ্ঞার প্রকাশ। রাতের আঁধারে সওজের কোটি টাকার জায়গা দখলের এই ঘটনা যদি দ্রুত রোধ না করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে মহাসড়ক সংলগ্ন আরও জায়গা একইভাবে হুমকির মুখে পড়বে। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সময়োচিত কঠোর পদক্ষেপই পারে এই দখল প্রতিরোধ করতে।