
মো. খায়রুল ইসলাম হৃদয়
গজারিয়া উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শৃঙ্খলা ও মনিটরিং ঘাটতির চিত্র যেন দিনদিন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতা ও ইচ্ছেমতো চলাফেরার কারণে শিক্ষার্থীরা বারবার বঞ্চিত হচ্ছে সঠিক পাঠদান থেকে।
সোমবার (২১ জুলাই) বেলা আনুমানিক ১২টা ৪৫ মিনিটে সরজমিনে গিয়ে এমনই এক চিত্র দেখা গেছে উপজেলার টেংগারচর ইউনিয়নের মিরেরগাঁও ৪৭নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। স্কুলে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের দেখেই শিক্ষকরা হুড়োহুড়ি করে শ্রেণিকক্ষে ঢুকতে শুরু করেন।
বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে কয়েকজন শিক্ষককে বসে থাকতে দেখা গেলেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ডালিয়া আক্তার উপস্থিত ছিলেন না। শিক্ষার্থীরা জানান, তিনি “ওয়াশরুমে” গেছেন বলে জানানো হলেও ২০ মিনিট অপেক্ষার পরও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি বিশেষ কাজে উত্তরশাহাপুরে আছেন।
শ্রেণিকক্ষে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা বিনা তত্ত্বাবধানে বসে আছে, রোলকলও হয়নি। তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা জানায়, তখন দুপুর ১টা বেজে গেলেও কোনো ক্লাস শুরু হয়নি। শিক্ষকরা তখন মাত্র শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেন এবং সেখান থেকেও মোবাইলে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
বিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস টাইম দুপুর ১২টা ১০ মিনিট থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত নির্ধারিত। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, টিফিনের আগে দুটি ক্লাস হবার কথা থাকলেও কোনো ক্লাস হয়নি। এমন অভিযোগ পূর্বেও উঠলেও এবার তা সরজমিনে গিয়ে প্রমাণ মিলেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক ক্যামেরার সামনে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। তবে তিনি দাবি করেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসের একজন কর্মকর্তা স্কুল পরিদর্শনে এসেছিলেন, সেইজন্য অফিসের কাজে ব্যস্ত ছিলেন তারা। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই কর্মকর্তা বেলা ১২টার আগেই বিদ্যালয় ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহানাজ পারভিন বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিয়েছি।আমি প্রাথমিক অবস্থায় কারন দর্শানোর জন্য( শোকজ)রেডি করেছি।কেনো ক্লাস টাইম এ দাপ্তরিক কাজ করবে,ক্লাস না করে।প্রতি মাসে মিটিং এ সচেতন করার পরও তারা এমন কাজ করছে।
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে যেখানে সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে, সেখানে মাঠ পর্যায়ে এমন দায়িত্বহীনতা ও শৃঙ্খলার অভাব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির ঘাটতির দিকেই ইঙ্গিত করছে।