
যোগাযোগমন্ত্রীর অবৈধ চাঁদাবাজির সংজ্ঞা বৈধতা পেলে এ সংসদের মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই বছর
এ. জেড. এ মুকুল
“যশোর থেকে ঢাকা মাল নিয়ে যাতি দুইশত কিলোমিটার রাস্তায় পাঁচ জায়গায় টাকা দিতি হয়। ঘাট দিয়ে গেলি লাইন আগে-পিছে করতি টাকা লাগে। নালি ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়ায় থাকো। ঢাকায় ঢুকার আগেও টাকা লাগে”। এভাবেই নিজের অভিজ্ঞতা বলছিলেন ট্রাক চালক আসলাম। এটা যে শুধু একজন চালকের বা কোনো ব্যক্তি বিশেষের অভিজ্ঞতা, তেমন নয় বিষয়টা। দেশের অন্যান্য সড়কেও বিভিন্ন হারে চাঁদা দিতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। রাজধানীসহ সারা দেশে প্রায় ৩ হাজার স্পট থেকে প্রতিদিন প্রায় শতকোটি টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। এসব চাঁদাবাজির পেছনে সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতি, শ্রমিক সংগঠন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা জড়িত।
গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকালে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও যোগাযোগমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, চাঁদা আমি সেটাকে বলতে চাই, যেটা কেউ দিতে চায় না, অথবা তাকে সেটা দিতে বাধ্য করা হয়। সড়কে বিভিন্ন পরিবহন থেকে সমঝোতার ভিত্তিতে টাকা নেওয়া হলে সেটা চাঁদা নয়, বরং টাকা দিতে বাধ্য করা হলে সেটা চাঁদা। তিনি বলেন, ‘‘সে টাকা তারা তাদের কাজে বা কল্যাণ কাজে ব্যবহার করে। তবে এমনিতে কেউ যদি চাঁদাবাজি করতে আসে, সে সুযোগ নেই।’’
অনেকেই তাঁদের সদ্য নির্বাচিত জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি চেয়ারে বসতে না বসতে চাঁদাবাজির যে নতুন সংজ্ঞা দিয়েছেন, তা শুনে সংজ্ঞা হারিয়েছেন। দুর্নীতি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান টিআইবি সংজ্ঞা না হারালেও শঙ্কা প্রকাশ করেছে। সাপ্তাহিক ছুটির মধ্যেই ২০ ফেব্রুয়ারি বাদ জুমা এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, চাঁদাবাজির মতো একটি অপরাধকে ভিন্ন ব্যাখ্যায় উপস্থাপন করে বৈধতার আবরণ দেওয়ার চেষ্টা দুর্নীতিবিরোধী ঘোষিত অবস্থানের পরিপন্থী। এতে শুধু পরিবহন খাত নয়, রাষ্ট্রীয় সেবা ও উন্নয়নব্যবস্থার বিভিন্ন ক্ষেত্রেও দুর্নীতিকে ন্যায্যতা দেওয়ার প্রবণতা শক্তিশালী হতে পারে।
টিআইবি বেশ জোরেশোরেই জানায়, নবগঠিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু সেই ঘোষণার অল্প সময়ের মধ্যেই পরিবহন খাতে বহুল আলোচিত চাঁদাবাজিকে ‘সমঝোতা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা সরকারের অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যাত্রীবাহী পরিবহনের একজন মালিক বলছিলেন, “রোড ট্যাক্সসহ যাবতীয় ফি দেওয়ার পরও রাস্তায় গাড়ি চালাতে গেলে এই টাকা দেওয়াই লাগে, না হলে চালাতে পারবেন না, টিকে থাকতে হলে সংগঠনের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই”।
সড়কে চাঁদাবাজি বাংলাদেশে নতুন নয়। এ নিয়ে নানা সমালোচনা, প্রতিবাদ থাকলেও প্রতিকার নেই। বরং দিনে দিনে এটি ‘মিউচুয়াল আন্ডারস্টান্ডিং’ হিসেবে স্থায়ী রূপ লাভ করেছে। তবে এভাবে অবৈধ বিষয়টি বৈধতার সুযোগ পেলে সাধারন জনগন আবারো ক্ষিপ্ত হতে থাকবে। তবে এটিও ধারনা করা যায় চাঁদাবাজি না কমাতে পারলে এ সংসদের মেয়াদ হবে পারে সর্বোচ্চ ২ বছর।