
আবু নাসের লিমন
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েও জীবন যুদ্ধে হার মানেনি কালাচাঁন, সংসার চালাচ্ছেন ভাসমান সবজির দোকান করে।
শ্রীনগর উপজেলার মধ্য বাঘড়া গ্রামের মরহুম আলিমুদ্দিনের ছেলে কালাচান। মাতৃ গর্ভ হতেই প্রতিবন্ধী হয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি অস্পষ্ট কথা বলেন, তার শ্রবণ শক্তিও কম।
জন্ম গ্রহণের কয়েক বছর পরে তার পিতা মারা যান।
পিতা মারা যাওয়ায় প্রতিবন্ধী হওয়া সত্বেও কিশোর বয়সে তাকে ছুটতে হয় কাজের সন্ধানে।
প্রথম দিকে তিনি দৈনিক শ্রমজীবীর কাজ করতেন।
অস্পষ্ট কথা ও শ্রবণশক্তি কম থাকার কারণে নিয়োগ কর্তা কাজে না নেয়ায় বাধ্য হয়ে তিনি রিক্সা চালাতে শুরু করেন।
শ্রবণশক্তি কম থাকায় রাস্তা চলাচলের সময় যান চলাচলের চালকগণ সাইড দেওয়া সংকেত দেয়ার পরও কানে না শোনার কারণে পরপর কয়েকটি বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি । প্রায় দুই বছর তাকে শয্যাশয়ী হয়ে থাকতে হয় ।
এ সময় তিনি কর্মহীন হয়ে পড়লে তার নিকটতম আত্মীয়-স্বজন পাড়া-প্রতিবেশী আর্থিক সহযোগিতা করে এ অর্থ দিয়ে চলে তার চিকিৎসা ও সংসার।
সুস্থ হওয়ার পর তিনি আর ঘরে বসে থাকেননি। সংসার পরিচালনায় কারো কাছে হাত পাতেন নি। তিনি তার কাজের ধরন পাল্টিয়ে ভ্যানে করে গ্রাম অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে সবজি বিক্রি করেন।
এতে যা আয় হয় তা দিয়ে চলে যায় তার সংসার।
গ্রাম অঞ্চলে গৃহবধূরা তার কাছ হতে এসব সবজি ক্রয় করেন।
গ্রাম অঞ্চলে সবজি ঘুরে ঘুরে বিক্রি করলেও অতিরিক্ত দাম নেন না বলে জানালেন গৃহবধূ সালমা ও আসমা। তিনি আরো জানান, তার সবজির মান ও ভালো দাম বাজার সমতুল্য ।
কালা চাঁন মানুষের কাছে হাত না পেতে কাজ করায় স্থানীয়রা তার বেশ প্রশংসা করে বলেন, মানুষ ইচ্ছা করলে অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারেন তার বাস্তব উদাহরণ শারীরিক প্রতিবন্ধী কালাচাঁন। তিনি কারো কাছে হাত না পেতে শত কষ্টের মাঝেও কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন এটা তার থেকে অনেকেরই শিক্ষনীয়।