
বর্ষন মোহাম্মদ
মিরকাদিমের কমলা ঘাট বন্দরে যোগাযোগ ব্যবস্থার কারনে অচল অবস্থার সৃষ্টি নৌপথের ভোগান্তি দূর করতে ব্যবসায়ীরা স্থল পথে অধিক খরচ দিয়ে এই ব্রিজটি দিয়ে র্ট্রাকে করে মালামাল বিভিন্ন স্থানে পাঠাতো। এই ব্রিজটিই ছিলো কমলাঘাট বন্দর থেকে সড়ক পথে সিপাহীপাড়া , মুক্তাপুর হয়ে বিভিন্ন জেলায় যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম। বর্তমানে বিকল্প পথে পন্য আমদানি রপ্তানি করতে বন্দরের ব্যবসায়ীরা পড়েছেন বেশ বিপাকে।
কালের বিবর্তনে প্রায় ২শ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই বন্দরটি অচল হয়ে পড়ে।কমলা ঘাট বন্দরে চাল, ডাল, তেলসহ সকল প্রকার পন্য উঠানামা করতো। কালের বিবর্তনে নাব্যতা সংকটে পড়ে ইছামতি নদী। ফলে দিনে দিনে ধস নামে বন্দরের সব ধরনের ব্যবসায়।
কাঠপট্টির পুরাতন কাঠের বৈশিষ্ট মূলত; ব্রিটিশ আমলের পর থেকে বিভিন্ন স্থান, গোডাউন, মিল, কারখানা থেকে টেন্ডারে কাঠ কিনে আনা। টেন্ডার থেকে কিনে আনা কাঠগুলো প্রক্রিয়াজাত করে নতুন করে দরজাসহ বিভিন্ন ফার্নিচার তৈরি করা হয়।
তেলের ব্যবসায় ধসঃ তেল মিলের জন্য মিরকাদিম ছিল বিখ্যাত, বিশেষ করে এই সব মিলে সরিষা,তিল,তিসি,বাদাম,ভেরেণ্ডা,গুজি প্রচুর পরিমানে ভেঙ্গে তৈল করা হতো আর এই তৈল দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা এসে খরিদ করে নিয়ে যেত।
আটা ময়দার ব্যবসায় ধসঃ জেলায় উৎপাদিত ফসলি জমির গম থেকে মেশিনে ভাঙ্গিয়ে আটা ময়দা তৈরী করিত মিল মালিকরা। কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে অনেক মেইল। প্রায় ৫০ বছর বছর ধরে আটা ময়দার ব্যবসায়ী ও মিল মালিকরা পুঁজি ঘাটিয়ে লাভ/লোকসানগুনের মধ্যেও ব্যবসাটিকে ধরে রেখেছে।
ডালের ব্যবসায় ধসঃ কমলা ঘাট এলাকায় মসুর ডাল মিল প্রতিষ্ঠা শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। ওই সময় থেকেই বরিশাল.চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনার ঈশ্বরদী, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ, ফরিদপুর, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া থেকে মসুর ডাল কিনে এনে কমলা ঘাট বন্দরের মিলগুলোতে প্রক্রিয়ার পর বাজারজাত করণ হতো। তবে এই শতাব্দীর শুরুর দিকে কমলা ঘাট বন্দরের ডাল ব্যবসা সারা দেশে প্রসার লাভ করে। অথচ প্রায় ৫০ বছর বছর ধরে ডাল ব্যবসায়ী ও মিল মালিকরা পুঁজি ঘাটিয়ে লাভ/লোকসানগুনের মধ্যেও ব্যবসাটিকে ধরে রেখেছে। অনেকে বন্ধ করে দিয়েছে মেইল। কেউবা ঋণের জালে আটকে পথে বসেছেন। ফলে বেশিরভাগ মিল বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয় মুরুব্বি করিম মোল্লা বলেন, নদীতে পলি জমে চর পড়ে যাওয়ায় চলে কোন নৌ যানবাহন। জোয়ার ভাটার সাথে মিতালি করে কমলা ঘাট বন্দর কোন রকমে শত বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখেছিলো। নাব্যতা সংকটের কবলে পড়ে ইছামতি নদী। নদীর মুখে চর পড়ে পানি প্রবাহ কমে যায়। ব্যবসায়ীরা সড়ক পথে পন্য আমদানি রপ্তানি করে দ্বিগুন খরচ দিয়ে। নদী খনন করার জোর দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় কমলা ঘাট বন্দর তার ঐতিহ্য হারাবে।