
মোঃ খায়রুল ইসলাম হৃদয়:
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। এদের দ্বারা সংঘটিত হচ্ছে অরাজকতা ও নানা অপকর্ম। সর্বশেষ উপজেলার টেংগারচর ইউনিয়নের বৈদ্যারগাঁও গ্রামের মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মোঃ আরাফাত সিকদার জুম্মন (১৮) কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে ভবেরচর ইউনিয়নের আনারপুরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে একই ইউনিয়নের মীরেরগাঁও গ্রামের সন্ত্রাসী কিশোর গ্যাং অতর্কিতভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আরাফাত সিকদারের ওপর হামলা চালায়।
এ সময় গ্যাংয়ের সদস্য সিফাত (২০) ধারালো অস্ত্র দিয়ে আরাফাত সিকদারের নিতম্বে আঘাত করলে পায়ুপথ ছিদ্র হয়ে মারাত্মক রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এরপর গ্যাং সদস্যরা আরাফাতের মামা ও মামীকেও এলোপাতাড়ি মারধর করে আহত করে।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা আরাফাতকে উদ্ধার করে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে পথে যানজটে আটকে পড়ায় প্রথমে তাকে নারায়ণগঞ্জের প্রো-অ্যাকটিভ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে জরুরি অস্ত্রোপচার করা হলেও অবস্থার অবনতি হলে রাতেই ঢাকা মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়।
বর্তমানে আরাফাতের অপারেশন সম্পন্ন হলেও তার অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন। তিনি পায়ুপথে মারাত্মক জখমপ্রাপ্ত হওয়ায় পাইপের মাধ্যমে মলত্যাগ করতে হচ্ছে বলে জানান স্বজনরা।
এ ঘটনায় আরাফাতের মা রেজিয়া বেগম বাদী হয়ে মীরেরগাঁও গ্রামের সিফাত (২০), জয় (১৯), জুনায়েদ (২০), জাহিদুল (১৯), আব্দুল্লাহ (১৯)সহ আরও ৪/৫ জনকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
তবে এমন ভয়াবহ ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত এই কিশোর গ্যাং চক্রকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।