
মুন্সিগঞ্জের বার্তা ডেস্ক- মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ১৩ মে ছিল গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। এদিন পূর্ব পাকিস্তানের সামরিক আইন প্রশাসক টিক্কা খান মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি কর্নেল এম এ জি ওসমানীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের জবাব দেওয়ার জন্য সামরিক আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। এদিন পাকিস্তানি হানাদারেরা পাবনার ডেমরায় গণহত্যা চালায়। হানাদারদের চালানো এই গণহত্যায় শহীদ হন ৩৫০ জন সনাতন ধর্মাবলম্বী। পাকিস্তানি হানাদারেরা গণহত্যা চালায় মুন্সিগঞ্জের সাতানিখিল গ্রামে।
সাতানিখিল গণহত্যা:
১৩ মে রাত সাড়ে তিন টায় হানাদারেরা মুন্সিগঞ্জের সদর উপজেলার কেওয়ার চৌধুরীবাড়ি ঘিরে ফিলে। তারপর ওই বাড়ি থেকে চিকিৎসক সুরেন্দ্র চন্দ্র সাহা, তার দুই ছেলে শিক্ষক সুনীল কুমার সাহা ও দ্বিজেন্দ্র লাল সাহা, অধ্যাপক সুরেশ ভট্টাচার্য, শিক্ষক দেব প্রসাদ ভট্টাচার্য, পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর শচীন্দ্র নাথ মুখার্জিসহ ১৭ জন বুদ্ধিজীবীকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর ১৪ মে সকাল ১০টায় কেওয়ার সাতানিখিল গ্রামের খালের পাড়ে নিয়ে গিয়ে চোখ বেঁধে ১৬ জনকে ব্রাশফায়ার করে হত্যা করে হানাদারেরা। হানাদার বাহিনী চিকিৎসক সুরেন্দ্র চন্দ্র সাহাকে ধরে নিয়ে যায় হরগঙ্গা কলেজের সেনাক্যাম্পে। তারপর আর তার খোঁজ পাওয়া যায়নি। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায় জিতু ভৌমিকসহ দুজন। এ গণহত্যার দুদিন পর ১৬ মে পাকিস্তানি হানাদারেরা এসে ১৪টি লাশ পার্শ্ববর্তী ব্রহ্মপুত্র নদীতে ভাসিয়ে দেয়। অবস্থা এমন ছিল যে, লাশগুলো দাহ করার লোকও খুঁজে পাওয়া যায়নি।