
স্টাফ রিপোর্টার
অজ্ঞানপার্টি চক্রের এক মূল হোতাকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে স্বর্ণের লকেট, বিদেশি মুদ্রা ও একটি সিএনজি অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাটি ঘটে ইংরেজি ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৩টা সময়। ভুক্তভোগী দোলন মল্লিক (৩৮), স্বামী—রঞ্জিত কুমার মল্লিক, সাং—কান্দামাতা, থানা—নবাবগঞ্জ, জেলা—ঢাকা। তিনি নবাবগঞ্জ থানাধীন টিকরপুর হরিকালী মন্দিরে কীর্তন শুনে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে নবাবগঞ্জ অটোস্ট্যান্ডে একটি সিএনজি অটোরিকশায় ওঠেন।
সিএনজিটি চালাচ্ছিলেন মো. মাসুম হোসেন (৩৭), পিতা—মৃত হাবিবুর রহমান, সাং—দাদপুর ঘোজা, থানা—পালং সদর, জেলা—শরীয়তপুর; বর্তমান ঠিকানা—কালিন্দী ঘাট, থানা—কেরাণীগঞ্জ মডেল, জেলা—ঢাকা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সিএনজিতে ওঠার পরপরই আসামি দোলন মল্লিকের হাতে ৬টি বিদেশি মুদ্রা (ওমানের ONE HUNDRED BAISA) দেন। এরপর তিনি সম্মোহিত অবস্থায় আসামির কথামতো তার গলায় পরিহিত তুলসির মালার সঙ্গে থাকা ১ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের লকেট এবং ৭ আনা ওজনের এক জোড়া স্বর্ণের কানের দুল নিজ হাতে খুলে তুলে দেন। পরে আসামি স্বর্ণালংকার নিয়ে পথিমধ্যে দোলন মল্লিককে নামিয়ে দিয়ে সিএনজি নিয়ে পালিয়ে যায়।
কিছু সময় পর দোলন মল্লিক স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলে বিষয়টি স্থানীয় লোকজন ও আত্মীয়স্বজনদের জানান। পরে বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে শ্রীনগর থানাধীন হাঁসাড়া ইউনিয়নের আলমপুর হাইস্কুলের সামনে স্থানীয় লোকজন সন্দেহভাজন আসামিকে আটক করে শ্রীনগর থানা পুলিশকে খবর দেয়।
সংবাদ পেয়ে মুন্সিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম পিপিএম-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আসামিকে আটক করে। এ সময় তার হেফাজত থেকে ১টি স্বর্ণের লকেট, ৬টি বিদেশি মুদ্রা (ওমানের ONE HUNDRED BAISA) এবং একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক মো. মাসুম হোসেনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে—
ডিএমপির শ্যামপুর থানার মামলা নম্বর-১, তারিখ ১ জানুয়ারি ২০২৫, ধারা ৩২৮/৩৭৯ দণ্ডবিধি;
ডিএমপির বংশাল থানার জিডি নম্বর-২৬০/২১, তারিখ ৬ মে ২০২১;
ডিএমপির মুগদা থানার নন-এফআইআর নম্বর-৭২/২০২২, তারিখ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত অজ্ঞাতনামা সহযোগী আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।