
রমজান মাহমুদ:
বিক্রমপুরের একটি স্থান রয়েছে যেখানে প্রাকৃতিক পরিবেশে প্রচুর বানর বিচরণ করে। এ স্থানটির সাথে প্রথম পরিচয় হয় ২০১৫ সালে গুরুর সাথে নৌ ভ্রমণে বের হয়ে। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে ডিউটি পরে খাহ্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, তখন খুব কাছ থেকে বানর দেখার সুযোগ হয়। গত দু’দিন আগে টাইমলাইনে বানরের একটি ছবি পোস্ট করলে ইউসুফ ভাই খাহ্রার এ স্থানটিতে যাওয়ার কথা জানালে আমি রাজি হয়ে যাই। এ স্থানটি নিয়ে আমার অনেক মজার অভিজ্ঞতা রয়েছে। বানরের জন্য দীর্ঘ আড়াই ঘন্টা অপেক্ষার পর দেখা পেলাম। কারণ বানরের মোড ভালো থাকলে সে লোকালয় চলে আসে। আর খারাপ থাকলে তার দেখা পাওয়া মুশকিল। আজ দুপুরে বানরের মোড খারাপ থাকায় তাদের দেখা পাচ্ছিলাম না। যখন দেখা পাওয়ার বিষয় সন্দিহান ছিলাম, তখন স্থানীয় নূর আমিন নামে একজন ভাইয়ের পরামর্শ অনুযায়ী দেখা সম্ভব হলো। কলা খাওয়ার ব্যবস্থা করে বানরের দেখা পেলাম।
খাহ্রায় বানরের বসবাস প্রায় চারশ বছর। এক সময় বিক্রমপুরের অনেক স্থানে বানরের বিচরণ দেখা গেলেও এখন এ একমাত্র স্থানে বানরের দেখা মেলে। প্রকৃতির খুব কাছে গিয়ে বানরের দেখা কৌতূহলীদের আনন্দ দিতে পারে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় এক সময় সরকারিভাবে এ বানরদের খাবারের ব্যবস্থা করা হলেও এখন তা চোখে পড়ে না। যা বানরের স্বাভাবিক জীবন যাপন বাধাগ্রস্ত করছে। খাদ্যের অভাবে তাদের জীবন ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে। আর খাদ্য চাহিদা পূরণে বানরগুলো লোকালয় ঢুকে স্থানীয়দের বিরক্ত করছে। প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর যদি সরকারিভাবে এদের খাবারের ব্যবস্থা করে তাহলে বানরগুলোরও জীবনের ঝুঁকি হ্রাস পায় এবং পর্যটকরা এখানে এসে প্রকৃতির রাজ্যে নিজেদের আনন্দ দিতে পারবেন…
আশাকরি প্রশাসন সুদৃষ্টি দিবেন বিশেষ করে শ্রীনগর উপজেলা প্রশাসন।