
নিজস্ব প্রতিবেদক:
কৃষকদের ধান কেটে ঘরে তোলার উৎসব হলো নবান্ন উৎসব। গ্রামীণ জনপদে দিগন্তবিস্তৃত ফসলের মাঠ আছে কিন্তু কৃষকের ঘরে নেই নবান্নের আমেজ। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নবান্ন উৎসব কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে। কয়েক শতাব্দী পূর্বেও নবান্নের ধান কাটার উৎসবে মুখরিত হতো প্রতিটি পাড়া মহল্লা। কিন্তু বর্তমান গ্রামীণ জনজীবনে নবান্ন উৎসব এখন আর পালন করতে দেখা যায় না।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় ধানের ভালো ফলন হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ধান পাকায় এরই মধ্যে শুরু হয়েছে কৃষকদের ধান কেটে ঘরে তোলার উৎসব। বর্তমানে উপজেলার চরাঞ্চলের কৃষকরা ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কৃষকদের ধান কেটে ঘরে তোলার উৎসব সম্পন্ন হবে। ধানের ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকের মূখে হাসি ফুটেছে। কৃষকরা ধান কেটে মাধায় করে নিয়ে বাড়ীতে তুলছেন। বাড়ীর নারীরা ধান মারাইয়ে কৃষকদের সহযোগীতাসহ ধান সেদ্ধ করে ধান শুকানোর কাজ করছেন। তপ্ত রোদে ধান শুকিয়ে গেলে সে ধান কৃষক গোলায় নিয়ে সংরক্ষণ করছেন।
সিরাজদিখান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, এ বছর এ উপজেলায় ৫ হাজার ২ শত ৯০ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ করা হয়েছে। এ বছর উপজেলার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে ব্লক মিলিয়ে ১০ থেকে ১২ জাতের ধান আবাদ করা হয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, এবছর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের প্রায় সবকটি ইউনিয়নেই ধান চাষ করা হয়েছে। রোগ-বালাই কম হওয়ায় ধানের ফলনও গত বছরের তুলনায় এবছর ভালো হয়েছে। প্রথম ধাপে শুরু হয়ে বর্তমানে চলছে ২য় দাপে ধান কাটার কর্মযজ্ঞ। আগামী ৪-৫ দিনের মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পুরোদমে শুরু হওয়া ধান কাটার উৎসব সম্পন্ন হবে।
সিরাজদিখান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তা আবু সাঈদ শুভ্র জানান, এবছর সিরাজদিখান উপজেলায় ৫ হাজার ২ শত ৯০ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ করা হয়েছে। গত বছর এ উপজেলায় ৫ হাজার ২ শত ৫০ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ করা হয়। যা গত বছরের চেয়ে এ বছর ৪০ হেক্টর বেড়েছে। এবার ধানের ফলন ভালো হয়েছে। কৃষকরা তাদের ফলন ঘরে তুলছেন।