
মোহাম্মদ ছিবগাতুল্লাহ
গ্রামাঞ্চলের খাল, বিল ও পুকুরে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে বিদেশি প্রজাতির সাকার মাছ। অস্বাভাবিক দ্রুত বংশবিস্তার ও খাদ্যাভ্যাসের কারণে এই মাছ এখন দেশীয় প্রজাতির জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় জেলে ও মৎস্যচাষিদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাকার মাছের দাপটে ছোট-বড় অনেক দেশীয় মাছের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে।
মৎস্যজীবীরা জানান, সাকার মাছ পানির নিচের তলদেশ পরিষ্কার করতে গিয়ে দেশীয় মাছের ডিম ও পোনা নষ্ট করছে। ফলে স্বাভাবিক প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে। অনেক পুকুরে এখন জাল ফেললে রুই, কাতলা বা মৃগেলের বদলে উঠে আসছে সাকার মাছ। এতে অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি স্থানীয় জলজ জীববৈচিত্র্যও বিপন্ন হয়ে পড়ছে।
স্থানীয় কৃষক ও পুকুর মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একবার কোনো জলাশয়ে সাকার মাছ ঢুকে পড়লে তা নিয়ন্ত্রণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। কারণ এই মাছ কম অক্সিজেনেও টিকে থাকতে পারে এবং কাদামাটি বা নোংরা পানিতেও সহজে বেঁচে যায়। ফলে খাল-বিল শুকিয়ে গেলেও সাকার মাছ মাটির ভেতরে আশ্রয় নিয়ে বেঁচে থাকে।
মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত অ্যাকুয়ারিয়ামের সৌন্দর্যবর্ধক মাছ হিসেবে দেশে আনা হয়েছিল সাকার। পরবর্তীতে অব্যবস্থাপনার কারণে এসব মাছ খাল-বিল ও পুকুরে ছাড়া হয়। সঠিক নিয়ন্ত্রণ ও জনসচেতনতার অভাবে আজ তা পরিবেশের জন্য বড় হুমকিতে পরিণত হয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে দেশীয় অনেক প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সাকার মাছ নিয়ন্ত্রণে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি গ্রহণ, অবৈধভাবে বিদেশি মাছ চাষ বন্ধ এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
গ্রামবাংলার জলাশয় ও দেশীয় মাছ রক্ষায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে এর প্রভাব পড়বে খাদ্য নিরাপত্তা ও প্রাকৃতিক ভারসাম্যের ওপর—এমন আশঙ্কাই করছেন সচেতন মহল।