
স্টাফ রিপোর্টার
শ্রীনগরে একাধিক স্থানে সংঘটিত ধারাবাহিক চুরি মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে থানা পুলিশ। অভিযানে চোরাই মালামাল উদ্ধারসহ একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে গ্যাস সিলিন্ডার, ব্যাটারি, চাল-ডালসহ বিপুল পরিমাণ চোরাই মালামাল এবং চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যান।
২৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ রাত আনুমানিক ২টা ৫ মিনিট থেকে ভোর ৪টা ২৫ মিনিটের মধ্যে শ্রীনগর থানাধীন বিভিন্ন এলাকায় সংঘবদ্ধ চোরচক্র একাধিক চুরির ঘটনা ঘটায়। বেলতলী গ্রামস্থ একটি সিলিন্ডার ও অটোপার্টস দোকান থেকে ১৫টি গ্যাস সিলিন্ডার, আটপাড়া কলিগাঁও গ্রামস্থ একটি অটোরিকশা গ্যারেজের পেছন দিকের টিন কেটে ২৪টি ব্যাটারি এবং তন্তর বালিটা গ্রামস্থ কাজী বাড়ির মুদি দোকান থেকে ১০টি গ্যাস সিলিন্ডার, ২০ বস্তা চাল, ২ বস্তা ডালসহ অন্যান্য মালামাল চুরি করা হয়। এসব চোরাই মালামালের আনুমানিক মূল্য ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৩০০ টাকা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. রুহুল আমিন হাওলাদার (৫০) এর অভিযোগের প্রেক্ষিতে শ্রীনগর থানায় মামলা নম্বর-০৪, তারিখ-০১/১২/২০২৫ খ্রিঃ, ধারা-৪৬১/৩৮০ পেনাল কোডে মামলা রুজু করা হয়।
পুলিশ সুপার মুন্সীগঞ্জ মো. মেনহাজুল আলম পিপিএম এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্), শ্রীনগর সার্কেল অফিসার ও শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জুয়েল মিয়ার তত্ত্বাবধানে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিল্টন দত্তের নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে।
তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ প্রথমে মো. রাজিব বেপারী (৩০) ও মো. সুজন (৩৬) কে গ্রেফতার করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে আরও একজন আসামি মো. ফারুক শেখ (৩৯) কে ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে যে, তারা চারজন মিলে একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্রের সদস্য। চুরির কাজে তারা হাবিব ওরফে জসিমের নামে ব্যবহৃত একটি ভুয়া নম্বরধারী পিকআপ ব্যবহার করলেও প্রকৃত রেজিস্ট্রেশন নম্বর ছিল ঢাকা মেট্রো-ন ২৩-২২৮৯। মুখোশ পরিহিত অবস্থায় তারা এসব চুরির ঘটনা ঘটায় এবং চোরাই মালামাল ফারুক শেখের কাছে বিক্রি করে।
আসামিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন জননী কুরিয়ার সার্ভিস সংলগ্ন ফারুক শেখের হোটেল ও গোডাউন থেকে ৬টি রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার ও একটি খালি তেলের গ্যালন উদ্ধার করা হয়। এছাড়া শ্রীনগর থানাধীন বেলতলী এলাকায় রাজিব বেপারীর ভাড়া বাসা থেকে চিনি, পোলাও চাল, সয়াবিন তেল, সার্ফ এক্সেল, সাবান ও পেপসোডেন্ট উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, চোরচক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতার এবং অবশিষ্ট চোরাই মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উদ্ধারকৃত মালামাল এর মধ্যে চুরির কাজে ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যান (ঢাকা মেট্রো-ন ২৩-২২৮৯), ৬টি গ্যাস সিলিন্ডার, ১টি খালি তেলের গ্যালন, চিনি ১৫ কেজি, পোলাও চাল ২০ কেজি, সয়াবিন তেল ৭ লিটার, সার্ফ এক্সেল ১২ প্যাকেট, সাবান ৩টি ও পেপসোডেন্ট ১টি।