
আল আমিন
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার ফসলি মাঠ গুলো এখন সরিষার হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে। চারদিকে যেন হলুদের বিল। মাঠের যে দিকে চোখ যায় চারিদিকে শুধু হলুদ ফুলের সমারোহ। সবুজ গাছের ডোগায় হলুদ ফুল। সে ফুলে আবার মৌ-মাছির আগমন। এ যেন এক অপরুপ সৌন্দর্য্যের বাহন। একই মাঠ থেকে একদিকে কৃষকের ঘরে যাবে সরিষা অন্য দিকে মৌ-চাষী সংগ্রহ করবে মধু। মৌ-মাছির গুনজনে মুখরিত এখন পুরো গজারিয়ার ফসলি মাঠ। সে অপরুপ সুন্দর্য্য উপভোগ করতে গ্রাম থেকে শহর বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রতিদিনই বেড়াতে আসছেন ভ্রমন পিপাসুগণ। জানা গেছে, এ বছর বিল থেকে বন্যার পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় কৃষক অন্যান্য বছরের তুলনায় আগেই আগাম জাতের সরিষা বীজ বপণ করেছেন। ফলে পাকা সরিষা উঠানো যাবে অনেক আগেই। সরিষার গাছ ও ফুল সতেজ এবং সুন্দর হওয়ায় ভাল ফলনের আশা করছেন কৃষক। আর কৃষি বিভাগ বলছেন, সরিষার বাম্পার ফলনের জন্য সার্বক্ষনিক মাঠে থেকে কৃষক-কৃষানীদের
সঠিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। গজারিয়া উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, গত বছর উপজেলায় সরিষার আবাদ হয়েছিল ৬৯২ হেক্টর জমিতে। এবছর সরিষা চাষ হয়েছে ৭২০ হেক্টর জমিতে। উপজেলার আড়ালিয়া গ্রামের সরিষা চাষী শরিফুল ইসলাম, ভাটেরচর গ্রামের নাসির সরকার, গোলজার হাজ্বী সহ বেশ কয়েকজন জানান, আবহাওয়া ভাল থাকায় এবার সরিষার গাছ ও ফুল অনেক ভাল হয়েছে। আমরা আশা করি বাম্পার ফলন হবে। আর বিগত বছরের তুলনায় এ বছর জমিতে সরিষা আগে রোপন করায় দামও ভাল পাবেন বলে তারা আশা করেন। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল আরাফাত বিন সিদ্দিক বলেন, আমাদের উপজেলায় কৃষকের সরিষার আবাদ বাড়তি আয়ে সহায়ক। বিল এলাকায় সরিষার আবাদ বাড়ানোর জন্য আমরা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করেছি। যার ফলে এবার কৃষকও আগ্রহের সাথে সরিষার আবাদে ঝুকছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর সরিষার আবাদ বেড়েছে। আশা করি চলতি রবি মৌসুমে গজারিয়ায় সরিষার বাম্পার ফলন হবে।