
৪৬ নং কালিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ভোট কেন্দ্র হিসেবে পুনর্বহাল
ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহিদুল হাসান শাওন
মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার খাসমহল বালুচরের অন্তর্গত কালিনগর গ্রামে অবস্থিত ৪৬ নং কালিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরেই এলাকার মানুষের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ১৯৩৮ সাল থেকে এ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সাধারণ মানুষ নিয়মিতভাবে বিভিন্ন নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আসছেন।
খাসমহল বালুচরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কালিনগর ও মুরাদনগর গ্রামের প্রায় ৩,৬০০ নারী-পুরুষ ভোটার এই কেন্দ্রেই ভোট দিয়ে থাকেন। জাতীয় সংসদের মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের আওতায় এটি ১২১ নম্বর ভোটকেন্দ্র হিসেবে তালিকাভুক্ত।
দীর্ঘদিনের পরিচিত ও প্রতিষ্ঠিত ভোটকেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রণীত খসড়া ভোটকেন্দ্র তালিকায় কালিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিবর্তে পাশের একটি প্রতিষ্ঠানের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বিষয়টি এলাকায় নানা জল্পনা-কল্পনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি করে। তবে স্থানীয়দের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, ধৈর্য ও সম্মিলিত উদ্যোগের ফলে অবশেষে ১২১ নম্বর ভোটকেন্দ্র হিসেবে ৪৬ নং কালিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পুনর্বহাল করা হয়।
সম্প্রতি উপসচিব মোঃ হুমায়ুন কবিরের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে চূড়ান্তভাবে ভোটকেন্দ্রের নাম নিশ্চিত হয়, যা এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ও সন্তোষের অনুভূতি সৃষ্টি করেছে।
এই অর্জনের পেছনে শুরু থেকেই মুন্সিবাড়ির ছোট-বড়, যুবক-তরুণ থেকে শুরু করে নারী-পুরুষ সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন মুন্সিবাড়ির আবদুল্লাহ আল জাদিদ ইরান।
এ ছাড়াও মোঃ আলমগির হোসেন, মোঃ মহসিন মাস্টার, মোঃ জাহাঙ্গির মাস্টার, দুলাল মুন্সি, অলি উল্লাহ মুন্সি, আল আমিন মুন্সি, ফেরদৌস মুন্সি, দুদু মিয়া, সাইদুর মুন্সি, দিদার মুন্সিসহ মুন্সিবাড়ির ছোট বড় সকল সদস্যরবৃন্দ সার্বিক সহযোগিতা ও সমর্থন দিয়ে পাশে ছিলেন। উল্লেখ্য, মুন্সিবাড়ির একটি বড় অংশ দেশের বাইরে অবস্থান করলেও বাড়ির যেকোনো প্রয়োজনে ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তারা সবসময় আন্তরিকভাবে সহায়তা করে থাকেন।
স্থানীয়দের এই ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ও নাগরিক সচেতনতা কালিনগর গ্রামের গণতান্ত্রিক চর্চার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।