
রাকিব হাসান জিসান :
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৫ ধারার অধীনে অ-আমলযোগ্য অভিযোগ গুলো জিডি আকারে থানায় গ্রহন করা হয়, কারো কিছু হারানো গেলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিধিমালা অনুসারে জিডি দায়ের করা আবশ্যিক। বছর কতেক আগে ডিজিটালাইজড করা হয়েছে, অনলাইনে আবেদন করা বাধ্যতামূলক, এটা নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যেগ।
কিন্তু, থানায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যদি পার্শ্ববর্তী কম্পিউটারের দোকানের সাথে লিয়াজু করে এই কার্যক্রম দোকান থেকে করানোর কথা বলে তখন এই ডিজিলাইজড এর মূল্য কোথায়? জেনারেলি এই দায়িত্ব থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসারের, উনারা জিডি আকারে গ্রহন করবেন, কোন প্রকারে সমস্যা হলে সমাধানের জন্য সুন্দর ভাবে বুঝিয়ে দিবেন।
অথচ প্রকৃতপক্ষে বিচার প্রার্থীদের সাথে অভিযোগের ব্যাপারে খারাপ ব্যবহার করা হয়, আইনত এই আবেদন গ্রহন করা বাধ্যতামূলক, ৫০০/১০০০ টাকার বদৌলতে জিডি এন্ট্রি নেওয়া হয় অন্যথায় অন্যত্র দোকানে পাঠানো, ঘন্টার পর ঘন্টা বসিয়ে রাখা, বাহির থেকে আবেদন সার্ভারে আবেদন পাচ্ছেনা, অনলাইনে সার্ভার ডাউন হয়ে গেছে ইত্যাদি বাহানায় বিচার প্রার্থী ডিজিটালাইজড এর সুফলের বদলে কু-ফলেই হয়রানি গ্রস্থ। এই দিকে যদি নজর না দেওয়া হয়, সাধারণ পাবলিকের ভোগান্তি কম হবে কি করে?
এই ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা সমাধান প্রত্যাশা করেন সহজেই, সরকার চাইলে প্রতিটি থানায় সাধারণ ডায়েরী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার আলাদ পদ তৈরি করতে পারে, যারা হবেন আইটি এক্সপার্ট এবং শুধুই জিডি আবেদন গ্রহন ও নিষ্পত্তি ব্যাপারে বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত। পাশাপাশি আইনত কোন কোন ব্যাপারে জিডি গ্রহন করতে পারেন (অ আমলযোগ্য বিষয়াদি) ইত্যাদি চার্ট প্রকাশ্যে লটকানোর ব্যবস্থা করলে জনগন তার আইনগত অধিকারটা সহজেই জানতে পারবে। এতে করে অন্য অফিসারদের চাপ নেওয়া লাগবেনা আর সেবা প্রার্থীকে বাহির থেকে জিডিও করা লাগবেনা। সময়ের ব্যবধানে নিত্যনতুন আপডেটের জন্য আই টি সেক্টরে সংশ্লিষ্ট অফিসারকে সময় সময়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে।
সর্বপ্রথম প্রয়োজন উপযুক্ত স্মুথ, ল্যাগ ফ্রি ওয়েবসাইট, ইউজার ফ্রেন্ডলি ওয়েবসাইট এবং দোকান রেফার বানিজ্যের অবসানের জন্য আইটি এক্সপার্ট অফিসারের পাশাপাশি ডিজিটালাইজডকে স্মুথ করতে ইন্টারনেট সংযোগ হতে হবে নিরবিচ্ছিন্ন, থানায় থাকা কম্পিউটারের সি পি ইউ হতে হবে সুপার ফাস্ট প্রকৃতির, পাশাপাশি ভালোমানের প্রিন্টার রাখাও আবশ্যিক। দৈনিক আবেদন গ্রহন ও এন্ট্রি আপডেট অনলাইনে প্রকাশ করা ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তা কর্তৃক দায়িত্ব প্রাপ্ত অফিসারকে দৈনিক জবাবদিহির আওতায় নিয়ে আসাও বাধ্যতামূলক হওয়া প্রয়োজন।
আইনগত সেবা স্মুথলি পাওয়ার অধিকার সকল নাগরিকের এবং সেবা প্রদান করাও সংশ্লিষ্ট বিভাগের আবশ্যিক দায়িত্ব, অবহেলার ক্ষেত্রে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকিও প্রয়োজন, অন্যথায় ডিজিলাইজড সেবার নামে সেবা প্রার্থীর ভোগান্তিটাই বেশি হবে।
লেখক : শিক্ষাণবিশ আইনজীবী, জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ঢাকা।