
তোফাজ্জল হোসেন শিহাব:
মুন্সিগঞ্জে ধলেশ্বরী নদীর তীর সংলগ্নে গড়ে ওঠছে বিভিন্ন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান। আর এসব প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশনের জন্য নেই ড্রেনেজ ব্যাবস্থা। যার কারনে প্রতিষ্ঠানের অপরিশোধিত বর্জ সরাসরি ধলেশ্বরী নদীতে ফেলা হচ্ছে। এতে দুষিত হচ্ছে নদী। হুমকিতে পড়ছে জলজ প্রাণী।
নদী তীর সংলগ্ন অসংখ্য ছোট বড় প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেছে। রাইস মিল, অস্থায়ী নির্মিত বালু মহল, প্লাস্টিক কারখানা, হোটেল সহ বিভিন্ন ধরনের কলকারখানার পরিশোধিত/অপরিশোধিত বজ্য সরাসরি নদীর সাথে মিশে দুষিত হচ্ছে নদী।
জেলা শহরের লঞ্চঘাট, নয়াগাও, মুক্তারপুর ফেরিঘাট, মিরকাদিম নদী বন্দর/ কাঠপট্রি লঞ্চঘাট, স্টীমার ঘাট, ফিরিঙ্গীবাজার, সদর লঞ্চঘাটে অসংখ্য ছোট বড় প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অপরিশোধিত বিষাক্ত বজ্য ফেলা হচ্ছে ধলেশ্বরী নদীতে। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে প্রতিষ্ঠান মালিকরাও হয়ে ওঠছেন বেপোরোয়া। নদী দুষনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে শাস্তির আওতায় আনা গেলে দূষনের মাত্রা কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা।
তাছাড়া নদী দূষন রোধে জেলা প্রশাসনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ারও জোর দাবি সচেতন মহলের। একদিকে নদীতে বজ্য ফেলার কারনে দেশীয় মাছ এমনিতেই বিলুপ্তীর পথে অন্যদিকে পানি দুষনে বাড়ছে পানিবাহিত রোগ। জেলেরা বলছেন, আমরা এক সময় এই নদীতে প্রচুর পরিমান দেশীয় মাছ ধরতাম। এর চাহিদাও ছিল অত্যাধিক। এখন সারাদিন জাল নিয়েও নদী থেকে তেমন মাছ ধরা পড়ে না। কারখানা গুলোর বিষাক্ত বজ্যে পানির রং পরিবতন হয়ে যায়। তাছাড়া দুষিত পানিতে মাছ থাকতে পারে না।আমরাও আগের মত মাছ পাই না।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মুক্তারপুর ফেরিঘাট ও বাজার এলাকা থেকে শুরু করে স্টিমারঘাট রিকাবিবাজার পর্যন্ত অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের বর্জ নদীতে ফেলা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। বিশেষ করে মিরকাদিম ও স্টিমারঘাট এলাকার মাতুভান্ডার রাইস এজেন্সি মুন্সিগঞ্জ লঞ্চঘাট এলাকার রাইস মিলসহ অন্যান্যা মিলের বজ্য সরাসরি ধলেশ্বরীর সাথে মিশে পানি দুষিত হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠান মালিকদের প্রতি প্রশাসনের কঠোর নজরদারি আর সতরকতা অব্যাহত থাকলে নদী দূষন রোধ অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান মুন্সিগঞ্জের বার্তাকে জানান, বিষয়টি দুঃখজনক। শীঘ্রই লোক পাঠিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রতিবেদক
