
নজরুল ইসলাম ১৯৫৮ সালের ২রা মে খাসমহল বালুচর গ্রামের একজন সাধারণ কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৩ সালে এস এস সি, ৭৫ সালে এইচ এস সি, ৭৭ সালে বি এসসি এবং ১৯৮১ সালে ফলিত গনিত ও কম্পিউটার সাইন্সে এম এস সি পাশ করেন। বিএস সি পাশ করার পর , ১৯৭৮ সালে প্রায় এক বছর নিজ স্কুল খাসমহল বালুচর উচ্চবিদ্যালয়ে এবং পরে বাংলাদেশ মিলিটারী একাডেমীতে চার বছর শিক্ষকতা করেন। অতঃপর এশিয়ান ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি, ব্যাংকক থেকে উচ্চতর ডিগ্রী নিয়ে তিনি কম্পিউটার পেশায় নিয়োজিত হন এবং পর্যায়ক্রমে কৃষিব্যাংক, প্রশিকা, এল জি ই ডি, ও কানাডিয়ান হাই কমিশনে কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ হিসাবে চাকুরী। ১৯৯৮ সালে ইন্টারন্যাশনাল সিভিল সার্ভিস কমিশনে উত্তীর্ণ হয়ে জাতিসংঘের সদর দপ্তর সহ বিভিন্ন দেশের আঞ্চলিক অফিসে আইসিটি বিশেষজ্ঞ হিসেবে চাকুরী করেন। জাতিসংঘের পাসপোর্ট নিয়ে তিনি পৃথিবীর বহুদেশ ভ্রমণ করেছেন। প্রায় ২০ বছর চাকুরীর পর, জাতিসংঘের পেনশনভুক্ত কর্মকর্তা হিসাবে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৯ সন পর্যন্ত খাসমহল বালুচর স্কুলের এক ক্রান্তিকালীন সময়ে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি নানাবিধ সামাজিক কাজে জড়িত। তিনি দুই পুত্রের জনক। বড় ছেলে অর্থনীতিতে এমএসসি ও কানাডার অভিবাসী। ছোট ছেলে কম্পিউটার সাইন্স ইঞ্জিনিয়ারিং এ স্নাতক ডিগ্রী শেষে, ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি সিডনি, অষ্ট্রেলিয়ায় এম এস করছেন।
কি হতে চেয়েছিলেন…
ছোট বেলা থেকেই মিষ্টি আমার দারুণ প্রিয়। বাবার সাথে কদাচিৎ তালতলা হাটে যাওয়ার সুযোগ হতো। বাজারের কেন্দ্রে একটা মিষ্টির দোকান, গোলাকার চিতুই পিঠার দেখতে ‘বাসাভোগ’ কিংবা ‘বাদশাভোগ’ নামের মিষ্টি আমার দারুণ প্রিয় ছিল। তখন ভাবতাম বড় হয়ে মিষ্টি দোকানের কর্মচারী হবো, সারাক্ষন শুধু মিষ্টি খাবো।
কৈশোরের শুরুতে সিনেমা হলের দারোয়ান হওয়ার ইচ্ছেটা বেশ প্রবল ছিল। তবে সেগুলো বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। দস্যু বনহুর আর মাসুদ রানার চরিত্র ও মনে বেশ রেখপাত করেছিল।
নবম শ্রেণিতে পড়াকালীন সময়ে শ্রী রাধানাথ গুহ স্যার আমাদের ফিজিক্স পড়াতেন, উনি কোন বিদেশি ম্যাগাজিন থেকে উদ্ধৃত করে মজার একটা ক্লাস নিলেন কম্পিউটার সমন্ধে। সেই থেকেই মনের গহিনে গেথে গেলো কম্পিউটার বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন। তখনকার দিনে এটা ছিল আকাশ কুসুম কল্পনা, অলীক স্বপ্ন। কিন্তু সময়ের পরীক্রমায়, স্বপ্ন আমাকে ধরা দিয়েছিল। এ যেনো অলৌকিক এক পথ পরিক্রমা।
বাবা কী চাইতেন?
আমাকে নিয়ে বাবার তেমন মাথা ঘামাতে হয়নি, কারন আমি বরাবরই শান্ত স্বভাবের পাঠ প্রিয় ছেলে ছিলাম। তাই তিনি ধরেই নিয়েছিলেন বড় হয়ে অবশ্যই ভাল অবস্থানে থাকবো। তাছাড়া অনেকগুলো ভাইবোনের মধ্যে আমি বড় হওয়ায় দ্বায়িত্ব বোধ ছিল বেশ। ক্লাশ ফোরে পড়ার সময় থেকেই বাবা সাংসারিক অনেক বিষয়েই আমার সাথে শেয়ার করতেন, পরামর্শ নিতেন।
মনে আছে, দুই বছর বয়সেই বাবা কাঠি দিয়ে মাটিতে লিখে লিখে আমাকে বর্ণমালা শিখিয়েছিলেন।
ছোটো বেলার অর্জন…
উল্লেখ করার মতো ছোট বেলার তেমন কোন অর্জন আছে বলে মনে হয় না। তবে সপ্তম শ্রেনীতে থাকা কালীন সময় ৬৯ এর গন আন্দোলন, তারই ধারাবাহিকতায় ৭০ এর জাতীয় নির্বাচন প্রত্যক্ষভাবে এবং পরিশেষে ৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধে পরোক্ষ অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখ করার মতো। তারুণ্য সেই উত্তেজনা মনে হলে আজও শিহরিত হই।
পড়াশোনার প্রিয় বিষয়…
পড়াশোনার প্রিয় বিষয় ছিল বরাবরই গনিত বিধায় প্রথমে গনিত, পরে কম্পিউটার বিজ্ঞানে মাষ্টার্স ডিগ্রি অর্জন করি।