
📖 আনন্দ পাঠশালা, মুন্সিগঞ্জ
আমিও শিখতে চাই, শিক্ষা আমার অধিকার এই স্লোগান সামনে রেখে শিশুর মুখে হাসি ফুটানোর স্বপ্ন থেকে এক অনন্য শিক্ষা আন্দোলনের শুরু।
প্রতিষ্ঠার সূচনা
২০১৯ সালের ২৬ অক্টোবর, সাতজন তরুণ শিক্ষার্থী—সরকারি হরগঙ্গা কলেজ, মুন্সিগঞ্জ-এর শিক্ষার্থীদের—নিয়ে যাত্রা শুরু করে আনন্দ পাঠশালা। তাদের লক্ষ্য ছিল একটি স্বপ্ন—যেন একটিও শিশু শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না থাকে।
এই সাতজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য স্বপ্ন দেখেছিলেন এমন একটি সমাজের, যেখানে পথশিশু বা দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের ভবিষ্যৎ শুধু দারিদ্র্য নির্ভর করবে না, বরং শিক্ষা তাদের জীবনে পরিবর্তনের দ্বার খুলে দেবে।
বর্তমান সদস্যদের নিরলস অবদান
আজকের আনন্দ পাঠশালার যে প্রতিটি সাফল্য—তার পেছনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন পাঠশালার বর্তমান সদস্যরা। তারা শুধু সময় বা শ্রম নয়, বরং তাদের হৃদয়ের ভালোবাসা দিয়ে গড়ে তুলছেন এই ছোট্ট শিক্ষার স্বপ্নদ্বীপ। কারও টিউশনের টাকা বাঁচিয়ে, কেউ নিজের হাত খরচ থেকে সঞ্চয় করে—সবাই মিলেই চালিয়ে নিচ্ছেন প্রতিটি খরচ, প্রতিটি দিকনির্দেশনা। ক্লাস নেওয়া, ভর্তি করানো, শিশুদের খোঁজ রাখা, পাঠশালার পরিবেশ বজায় রাখা—সবকিছুতেই তারা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাদের এ নিঃস্বার্থ পরিশ্রম এবং দায়িত্ববোধই আনন্দ পাঠশালার সবচেয়ে বড় শক্তি, যা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। 
চলমান কার্যক্রম
বর্তমানে, আনন্দ পাঠশালার অধীনে প্রায় ১০০ জন শিশুশিক্ষার্থী বিভিন্ন সময় পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছে। বর্তমানে নিয়মিত ক্লাসে অংশ নিচ্ছে ৩৫ জন শিক্ষার্থী।
এখানে শিশুদেরকে প্রাথমিক শিক্ষা, বাংলা, গণিত, ইংরেজি, সাধারণ জ্ঞান ও নৈতিক শিক্ষা দেওয়া হয়।
একটি নির্দিষ্ট সময় শিক্ষার পর, যেসব শিশুরা প্রস্তুত হয়, তাদেরকে ১ বছরের একটি নার্সিং পিরিয়ডে রাখা হয় এবং পরে পাশের হাটলক্ষ্মীগঞ্জ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দেওয়া হয়।
শুধু ভর্তি নয়, আনন্দ পাঠশালা ওই শিশুদের পড়াশোনার যাবতীয় খরচ—খাতা, কলম, বই, ইউনিফর্ম ইত্যাদি—সম্পূর্ণভাবে বহন করে।
অর্থায়ন ও পরিচালনা

আনন্দ পাঠশালার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো — সদস্যদের নিষ্ঠা ও মানবিকতা।
এই প্রতিষ্ঠানটি কোনো এনজিও, কোম্পানি বা সহযোগী সংগঠনের সহায়তা পায় না।
পাঠশালার যাবতীয় খরচ চলে সদস্যদের অনুদান, সরকারি হরগঙ্গা কলেজ মুন্সিগঞ্জের কিছু শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের আর্থিক সহায়তা এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতায়।
তাদের বিশ্বাস, “মানুষের জন্য কাজ করলে, মানুষ পাশে দাঁড়ায়।”
শিক্ষক ও শিক্ষা পদ্ধতি
এখানে নির্দিষ্ট কোনো বিল্ডিং নেই—তবে খোলা পরিবেশে, গাছের ছায়ায়, পাঠদান পরিচালনা করা হতো। কিন্তু এখন একটা ছোটো রুমে পাঠদান করানো হয়। শিক্ষা দেওয়া হয় আনন্দঘন পরিবেশে, যাতে শিশুরা ভয় নয়, ভালোবাসা দিয়ে শেখে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
“একটিও শিশু যেন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়”—এই লক্ষ্যেই এগিয়ে চলছে আনন্দ পাঠশালা।
ভবিষ্যতে স্কুলটির নিজস্ব জায়গা, ক্লাসরুম, লাইব্রেরি এবং টেকভিত্তিক (ডিজিটাল) শিক্ষার সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
পাশাপাশি শিশুদের মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সাহিত্য চর্চার পরিবেশ গড়ে তোলা হবে।
উদ্দেশ্য ও বার্তা
আনন্দ পাঠশালা শুধু একটি স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষা প্রকল্প নয়—এটি একটি সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলন।
এখানকার প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন একদিন আত্মনির্ভরশীল মানুষ হয়ে উঠে, সেটাই এখানকার শিক্ষক ও স্বেচ্ছাসেবকদের মূল লক্ষ্য।
শুভাকাঙ্ক্ষীদের জন্য বার্তা
আপনিও হতে পারেন এই আন্দোলনের এক অংশ।
আপনার একটি অনুদান, একটি খাতা কিংবা একটি কলম হয়তো কোনো শিশুর শিক্ষার পথে আলোর প্রদীপ জ্বালাতে পারে।
যোগাযোগ করতে পারেন আনন্দ পাঠশালার সদস্যদের সঙ্গে অথবা সরাসরি ভিজিট করতে পারেন পাঠশালা।
আনন্দ পাঠশালা – একটি ভালোবাসার নাম, একটি স্বপ্ন দেখার গল্প, একটি শিশু হাসির গল্প।
পাঠশালার অবস্থান
মুন্সীগঞ্জ হাটলক্ষীগঞ্জ প্রাইমারি স্কুলের ডান দিকে দুই মিনিট হাটার পথ, পানির ট্যাঙ্কের বিপরীতে (বেড়ি বাধ সংলগ্ন)।
যোগাযোগ :আব্দুল করিম -01921-512881
ইসতিয়াক আহমেদ – 01629-394962
শাহারিয়ার আমিন -01748561404
আনন্দ পাঠশালার ফেসবুক লিংক – https://facebook.com/groups/667838120508982/
লেখক: আরিফুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি ও প্রতিষ্ঠা সদস্য, আনন্দ পাঠশালা, মুন্সিগঞ্জ।