
মোরসালিন রহমান
সিরাজদিখান উপজেলায় চলতি রবি মৌসুমে বাঁধাকপির বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার এবং সময়মতো সঠিক পরিচর্যার ফলে এবছর উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ভালো ফলনের পাশাপাশি বাজারে ন্যায্য দাম পাওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে।
উপজেলার বাসাইল, ইছাপুরা, কোলা, রশুনিয়া ও শেখরনগরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠজুড়ে এখন সারি সারি সবুজ বাঁধাকপির ক্ষেত চোখে পড়ছে। কোথাও কোথাও মাঠ ভরা বড় ও আকর্ষণীয় আকারের বাঁধাকপি দেখে খুশি কৃষকরা। তারা জানান, এ বছর তুলনামূলকভাবে রোগবালাই কম ছিল এবং সার ও কীটনাশকের খরচও নিয়ন্ত্রণে থাকায় উৎপাদন ব্যয় কমেছে।
বাসাইল ইউনিয়নের কৃষক আওয়াল হোসেন বলেন, “গত বছর আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছিল। তবে এ বছর ফলন খুব ভালো হয়েছে। কপির আকার অনুযায়ী দাম নির্ধারণ হয়। ছোট কপি ২৫ টাকা এবং বড় কপি ৪০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। বাজারে চাহিদাও ভালো, তাই এবার লাভের আশা করছি।”
অপর কৃষকরা জানান, স্থানীয় পাইকাররা সরাসরি ক্ষেত থেকে বাঁধাকপি কিনে নিচ্ছেন। ফলে পরিবহন ও মধ্যস্বত্বভোগীর ঝামেলা কম হওয়ায় তারা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে সিরাজদিখানে বাঁধাকপি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার ফলে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ সম্ভব হয়েছে। এতে উৎপাদন যেমন বেড়েছে, তেমনি কৃষকদের আর্থিক অবস্থারও উন্নতি হয়েছে।
সব মিলিয়ে সিরাজদিখানে বাঁধাকপির বাম্পার ফলন কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।