1. tayranabir2@gmail.com : Tayran Abir : Tayran Abir
  2. admin@munshiganjerbarta.com : admin :
  3. sayedhasanafran@gmail.com : Sayed Afran : Sayed Afran
  4. hmalamimkhan@gmail.com : al amin : al amin
  5. mdaniksheikh95@gmail.com : Anik Sheikh : Anik Sheikh
  6. asifbadhon43@gmail.com : Asif Badhan : Asif Badhan
  7. jharnacomputercenter@gmail.com : Barshan Mohammod : Barshan Mohammod
  8. fjony7699@gmail.com : Forhat Jony : Forhat Jony
  9. lemonrep@gmail.com : Naser Lemon : Naser Lemon
  10. sheikhforidpolok4@gmail.com : Sheikh Polok : Sheikh Polok
  11. rhraju88994@gmail.com : Muhammad Raju : Muhammad Raju
  12. mdsejankhan12345@gmail.com : Md Sejan Khan : Md Sejan Khan
খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষকের ভবিষ্যৎ বিপন্ন - দৈনিক মুন্সিগঞ্জের বার্তা
মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ০১:২৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
জেলা পুলিশের পরিদর্শক মোফাজ্জল হোসেনের বিদায় সংবর্ধনা লৌহজংয়ে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে র‍্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত লৌহজংয়ের বেজগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি বরাদ্দের সুষম বণ্টনের দাবিতে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ ও মানববন্ধন  সিরাজদিখানে গণসংযোগে আসছেন নাহিদ ইসলাম ও হাসনাত আবদুল্লাহসহ এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা কবি ও সংগঠক বাপ্পি সাহা : সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের এক নিবেদিত মুখ জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ব্যাপারে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না : মুন্সীগঞ্জ জেলা আমির আ জ ম রহুল কুদ্দুস সিরাজদিখানের কৃতি সন্তান রমজান আহমেদের অনন্য অর্জন, দ্বিতীয়বারের মতো সম্পন্ন করলেন ৫০ কিলোমিটার আল্ট্রা রান লৌহজংয়ে আগ্নিকান্ডে তিনটি বসতঘর ভস্মীভূত  মুন্সিগঞ্জে ৮৫ বছরের বৃদ্ধা দাদীর হেলিকপ্টারে চড়ার সখ পুরন করলো প্রবাসী নাতি  মুন্সিগঞ্জে সততার অনন্য ও উজ্জল দৃষ্টান্ত স্হাপন করলো চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী সমুদ্র সাহা 

খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষকের ভবিষ্যৎ বিপন্ন

দৈনিক মুন্সিগঞ্জের বার্তা ডেস্ক:
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২০৮ বার পঠিত
খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষকের ভবিষ্যৎ বিপন্ন

খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষকের ভবিষ্যৎ বিপন্ন
মুন্সিগঞ্জে কমছে কৃষিজমি
ত্বাইরান আবির
দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে চলছে জেলার কৃষিখাত। ফসলের জমিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন জেলার কৃষকেরা। মাঠে মাঠে এখন চলছে বিশাল কর্মব্যস্ততা। মাঠের আবাদী জমিই কৃষকদের বড় সম্পদ। বেঁচে থাকার অবলম্বন। স্বাচ্ছন্দ্য, অনায়াস উদ্দীপনা, উদ্যম ও শক্তি নিয়ে দিনরাত মাঠে পরিশ্রম করে অর্থনীতির চাকা ঘুরাচ্ছেন কৃষকরা। এতে কৃষি বিপ্লবে আসছে গতিশীলতা। অনেকাংশেই চাঙ্গা হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি। তৃণমূল অর্থনীতির কাঠামো মজবুতের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও অবদান রাখছে কৃষি। অন্যদিকে কৃষি জমি কেটে পরিবেশ ধ্বংস করতে ভূমিদস্যুরা ভয়ানকভাবে তৎপর। জেলা-উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কৃষি জমির মাটি কাটা চলছে দেদারছে। শতাধিক স্পট থেকে জমি কেটে মাটি নেয়া হচ্ছে ইটভাটায়। এতে শত শত বিঘা ফসলি জমির ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে উর্বরতা হারিয়ে অনাবাদি হয়ে পড়ছে আবাদি জমি। ফসল ফলন যেমন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে তেমনি অন্যান্য জমিতে চাষাবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে কৃষক। জেলা ও উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বিগত ৩ দশকে ক্রমবর্ধমান হারে কমে যাচ্ছে আবাদি ক্ষেত বা কৃষি জমি। দিন দিন কৃষি আবাদি জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। শিল্পায়নের প্রভাবে নতুন নতুন অবকাঠামো, কল-কারখানা এবং অর্থনৈতিক জোন প্রতিষ্ঠা হওয়ায় কৃষি জমির পরিমাণ কমার গতি বেশ আশঙ্কাজনক। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৫ বছর ধরে আশঙ্কাজনকভাবে ধানি জমি কমতে শুরু করেছে। বিশেষ করে নগর ও নগরীর আশপাশের উপজেলায় ব্যাপকভাবে আবাদযোগ্য জমি কমছে। বড় হচ্ছে শহরাঞ্চল। এসব এলাকায় অপরিকল্পিত নগরায়ণে কৃষিজমি দ্রুত অকৃষি খাতে যাচ্ছে। এছাড়া ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে আবাসস্থল, শিল্প-কারখানাসহ নানা স্থাপনা নির্মাণের কারণে বেশি কমছে আবাদযোগ্য জমি। উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের কৃষি একসময় দেশের অর্থনীতির মেরুদন্ড ছিল এবং এখনও দেশের অধিকাংশ এলাকায় দশকের পর দশক ধরে কৃষি মানুষের মূল জীবিকা হিসেবে রয়ে গেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কৃষিজমির হার কমছে, ফসলী জমি বিভিন্ন ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যবহারে বদলে যাচ্ছে, যা শুধু মুন্সিগঞ্জ নয়, সারাদেশের এক বড় সংকটে পরিণত হচ্ছে। এই পরিবর্তন শুধু জমির পরিমাণ কমা নয়, বরং মানুষের আয়, খাদ্য উৎপাদন সক্ষমতা এবং স্থানীয় সামাজিক, অর্থনৈতিক কাঠামো সবকিছুতে প্রভাব ফেলছে।
এখন সারাদেশেই কৃষিজমি কমছে। এর পেছনে আছে বেশকিছু কারণ। বাংলাদেশের রিমোট সেন্সিং ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য মতে, ২০১৫ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দেশের কৃষিজমি প্রায় ২% কমে গেছে। মাটির ব্যবহার প্রধানত নগর উন্নয়ন, বসতি, শিল্প ও অবকাঠামোগত প্রকল্পের দিকে সরে যাচ্ছে।
মুন্সিগঞ্জ, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের মতো জেলা এই প্রবণতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধরা হয়েছে, নারায়ণগঞ্জে কৃষিজমি প্রায় ২৫% কমেছে। ঢাকায় প্রায় ২১% কৃষি জমি খর্ব হয়েছে। এই প্রবণতা মূলত বাড়তি আবাসিক এলাকায় জমি ব্যবহার, শিল্প ও বাণিজ্যিক উন্নয়ন, সড়ক, পরিবহন প্রকল্প, মেগা ইত্যাদি অবকাঠামো নির্মাণ এর কারণে হচ্ছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনের জন্য কল্যাণকর জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে।
পরিসংখ্যান ব্যুরো ও বাংলাদেশ পরিবেশ পরিসংখ্যান থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের মালিকানাধীন কৃষিজমি ২০২৩ সালে প্রায় ৭২,৯১৫ বর্গকিলোমিটার হলেও ২০১৫ সাল থেকে এটি প্রায় ১,৪৭০ বর্গকিলোমিটার কমেছে।
এটি শুধু জমির পরিমাণ কমা নয়, বরং ফসল উৎপাদন খাতের ওপর চাপ বাড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য নিরাপত্তায় বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতি বছর প্রায় ১% অযোগ্য বা অনন্য কৃষিজমি ভূমিতে পরিণত হচ্ছে, যার কারণে খাদ্য উৎপাদন সক্ষমতা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
শুধু জমি কমছে তা নয়, দেশের অধিকাংশ জমিই বর্তমানে পুরোনো পদ্ধতিতে অচল বা কম উৎপাদনক্ষম হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর একটি জরিপে দেখা গেছে যে দেশের প্রায় ৫৫.৬৩% কৃষিজমির উৎপাদনক্ষমতা কমে গেছে অর্থনৈতিকভাবে অদক্ষ বা অস্থিতিশীল পর্যায়ে।
এই মানের পতন এসে দাঁড়িয়েছে এমন এক স্তরে যেখানে অধিকাংশ জমি পুরোনো পদ্ধতিতে চাষ হচ্ছে, মাটির উর্বরতা ধীরে ধীরে কমছে, জলবায়ু পরিবর্তন বাড়ছে। এসব কারণে উৎপাদনের রিটার্ন দিন দিন কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে মুন্সিগঞ্জে পদ্মা সেতুর মতো বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পের কারণে প্রতি বছর জমির ব্যবহার বদলেছে। মহাকায় এই প্রকল্পের আশেপাশের এলাকাগুলো শহুরে বিকাশের দিকে ধাবিত হচ্ছে, যার ফলে কৃষিজমির জন্য নির্ধারিত জমি দ্রুত সরে যাচ্ছে।
স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষকরা স্বীকার করছেন যে, খামারের জমি বাড়ি ও ব্যবসা স্থাপনায় রূপান্তরিত হচ্ছে, পুরোনো সংস্কৃতি ও কৃষি-আশ্রিত কমিউনিটিগুলো উপকূলীয় চাপের মুখে, পরিবারগুলো এখন কৃষি ভুলে যাচ্ছে কর্মসংস্থান ও আয়ের সঙ্কটে।
এদিকে মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নিজস্ব পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জেলা পরিকল্পনায় কৃষি খাতের উৎসাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি শহর সম্প্রসারণ দ্রুত হচ্ছে, যার ফলে কৃষিজমি আর আগের মতো ফসল উৎপাদনে ব্যবহৃত হচ্ছে না।
যেহেতু জমি কমছে ও উৎপাদনের মান নিচে যাচ্ছে, এর ফলে কৃষকের উৎপাদন খরচ বাড়ছে, একক পরিবারের আয় কমছে, ঋণের বোঝা চাপা দিচ্ছে, নতুন প্রজন্ম শহর জীবনের দিকে ঝুঁকছে। এসব মিলিয়ে এখন আর তরুণেরা কৃষিকাজে আগ্রহী নয়, যা ভবিষ্যতে প্রাণঘাতী সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, যদি কৃষিজমি এই হারেই কমতে থাকে, তবে খাদ্য উৎপাদনের মধ্যে বড় ফাঁক তৈরি হবে, দেশীয় উৎপাদন হ্রাস পাবে, খাদ্য আমদানির উপর নির্ভরতা বাড়বে। এগুলো সবই খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সমাধান কী? সরকার ও সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো দেশের কৃষিজমি রক্ষায় কয়েকটি উদ্যোগ নিয়েছেঃ ১। কৃষিজমি সংরক্ষণ ও মানচিত্রিক পরিকল্পনাঃ বর্তমানে ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষি জমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৬ নামে একটি আইনের আওতায় দেশের জমির ব্যবহারকে আধুনিকভাবে মানচিত্রভিত্তিক নজরদারি করা হচ্ছে, যাতে কৃষিজমি নির্দিষ্টভাবে সংরক্ষিত হয় এবং পরিকল্পনাবদ্ধ উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়। ২। ডিজিটাল এলাকা শ্রেণিবিন্যাসঃ সরকার ১৮ টি ক্যাটাগরিতে দেশের সব জমি শ্রেণীবদ্ধ করছে এবং কৃষিজমিকে সবুজ হিসেবে চিহ্নিত করছে, যাতে কৃষির জন্য নির্ধারিত জমি ভবিষ্যতে কোনোভাবে অন্য কাজে বদলানো না যায়। ৩। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ দ্বারা সমীক্ষা ও মান উন্নয়নঃ
বাংলাদেশে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বিভিন্ন সময়ে জনগণের জন্য মাঠ পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। কিন্তু তথ্যের অনিশ্চয়তা বা সরকারি পরিসংখ্যানের ভিন্নতা মাঝে মাঝে বিরোধ সৃষ্টি করে। এই কারণেই আরও দৃঢ় গবেষণা ও নীতি নির্ধারণ জরুরী।
যদিও সারাদেশের সমস্যার চেয়েও মুন্সিগঞ্জের নির্দিষ্ট ডেটা পাওয়া সীমিত, তবুও উপর্যুক্ত জাতীয় ও জেলা পর্যায়ের তথ্যগুলো স্পষ্ট করে দেয় যে কৃষিজমির পরিমাণ কমছে শহরায়ন, অবকাঠামো ও বাণিজ্যিক উন্নয়নের কারণে। জমি মানের নিম্নগতি হচ্ছে উৎপাদন হ্রাস ও অনুন্নত চাষ পদ্ধতির ফলে। খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবিকার উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়ছে, ভবিষ্যতে সমস্যাগুলো আরও জটিল হতে পারে।
এটি শুধু মুন্সিগঞ্জের না, বরং পুরো বাংলাদেশের কৃষি খাতের সংকটের সংকেত। দ্রুত কৃষিজমি রক্ষা, পরিকল্পিত নগরায়ণ, আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃষি উন্নয়ন নীতি গ্রহণ করতে না পারলে আগামী দশকে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তা আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে।
জেলার কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, একসময় মুন্সীগঞ্জ জেলা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিল। এখন ফসলি জমি কমে যাওয়ায় উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। যদিও তা নজর এড়িয়ে যাচ্ছে। স্বাধীনতার পর থেকে গত ৫০ বছরে বিপুল পরিমাণ জমি চলে গেছে অকৃষি খাতে। শিল্পের আগ্রাসনসহ বিভিন্ন কারণে আশঙ্কাজনক হারে কমছে কৃষি জমির পরিমাণ। তারা বলছেন, আইনের মাধ্যমে কৃষিজমি সুরক্ষা করতে হবে এবং কোনোভাবেই তার ব্যবহারভিত্তিক শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না। কৃষিজমি নষ্ট করে আবাসন, শিল্প-কারখানা, ইটভাটা বা অন্য কোনো অকৃষি স্থাপনা নির্মাণের উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ বিষয়ে আইনে বলা হয়েছে- কৃষিজমি যে কেউ ক্রয়-বিক্রয় করতে পারলেও তা আবশ্যিকভাবে শুধু কৃষিকাজেই ব্যবহার করতে হবে। একাধিক কৃষি জমি সরকারি-বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য কোনো অবস্থাতেই অধিগ্রহণ করা যাবে না। তবে আবাসিক উদ্দেশ্যে কৃষি জমি ক্রয় ও ব্যবহার সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। কৃষিজমি চিংড়ি মহাল হিসেবে ঘোষণা করাও যাবে না। অপচয় রোধে জমির অধিগ্রহণ ন্যূনতম পর্যায়ে রাখতে হবে এবং অধিগ্রহণকৃত জমির অপব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। অধিগ্রহণকৃত জমি বেদখল থাকলে তা অনুসন্ধান করে মুক্ত করতে হবে। ভূমির অপচয় রোধে জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে একাধিক প্রতিষ্ঠানকে একই এলাকায় নিবিড়ভাবে স্থান সংকুলানের উপর জোর দেয়ার কথা বলা হয়েছে আইনে। কৃষি জমিতে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ফসল (যেমন- তামাক) উৎপাদনও করা যাবে না।
কৃষি জমি সুরক্ষায় আইনে কৃষি জমি বিনষ্ট করলে জেল-জরিমানার বিধান আছে। জমির প্রকৃতি পরিবর্তন করা যাবে না এমন সরকারি নির্দেশ থাকলেও চলছে ফসলী জমি কাটার মহোৎসব, রাতের আধারে অথবা দিনের আলোয় চলছে ফসলি জমিতে পুকুর খনন। প্রশাসন ও স্থানীয় লোকজনকে ম্যানেজ করেই চলছে এ কর্মযজ্ঞ। এতে উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে কমছে কৃষি জমির পরিমাণ।
বিএআরসি’র চেয়ারম্যান ড. শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার বলেন, ‘টেকসই উন্নয়নের জন্য ২০৩০ সালের মধ্যে খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ করতে হবে। কিন্তু কৃষিজমি কমে গেলে খাদ্যনিরাপত্তা হুমকির মধ্যে পড়বে। এজন্য কৃষিজমি রক্ষায় আন্তঃমন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে একটি প্রস্তাব তৈরি করছি। কাজটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়েই রয়েছে।’
বাকৃবি’র অধ্যাপক ও গবেষক গোলাম গনমাধ্যমকে বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ন, শিল্পায়ন, আবাসন ও অবকাঠামো নির্মাণের রাশ টেনে ধরতে হবে। কৃষি জমি বাঁচিয়ে পরিকল্পিতভাবে এসব কর্মযজ্ঞ সম্পাদন করতে হবে। যে জমি থেকে মানুষের খাদ্যের চাহিদা পূরণ হয়, সে জমি যে-কোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে। যেসব কৃষি জমি দখল হয়ে গেছে তা ফেরানো সম্ভব নয়। কেউ স্থাপনা, কারখানা ভেঙে কৃষি জমি উদ্ধার করবে না। ফলে বিদ্যমান কৃষি জমির দিকেই দৃষ্টি দিতে হবে। এসব জমি আর হাতছাড়া করে যাবে না। কোনোভাবে হাতছাড়া হলে খাদ্য সংকট যে তীব্র হয়ে উঠবে, তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। কৃষি জমির এমন বেহাল অবস্থায় জমিগুলো রক্ষায় সরকারকে সুনির্দিষ্ট আইন দ্রুত প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর