
সাইবার নিরাপত্তায় নিরলস এক যোদ্ধা: বাঁধন চৌধুরীর জন্মদিন আজ
ডিজিটাল বাংলাদেশের এই সময়ে সাইবার নিরাপত্তা এখন আর বিলাসিতা নয় বরং এটি এখন সময়ের অপরিহার্য চাহিদা। এই গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেই নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন সাইবার এক্সপার্ট বাঁধন চৌধুরী, যিনি নিজের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দিয়ে ইতোমধ্যে এক হাজারেরও বেশি মানুষকে সহায়তা করেছেন সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থভাবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লার এনায়েতনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করা বাঁধনের শৈশব ও বেড়ে ওঠা সেখানেই। ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তি ও বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে তার ছিল গভীর আগ্রহ। অ্যাপ কীভাবে কাজ করে, এর ভেতরের কাঠামো কী, কিংবা কীভাবে এটিকে আরও উন্নত করা যায় এসব বিষয় নিয়ে নিজেই গবেষণা করতেন তিনি।
এই আগ্রহ থেকেই পরবর্তীতে তিনি ঢাকায় ন্যাশনাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এ ভর্তি হয়ে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এ ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। এরপর ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি থেকে একই বিষয়ে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। তার এই একাডেমিক যাত্রাই তাকে ধীরে ধীরে নিয়ে আসে সাইবার সিকিউরিটির বিস্তৃত জগতে।
তবে তার এই পথচলা সহজ ছিল না। পরিবারের পক্ষ থেকে শুরুতে তেমন সমর্থন পাননি তিনি। তার বাবা একজন পাইলট হওয়ায় পরিবারের ইচ্ছা ছিল তাকেও সেই পেশায় দেখতে। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই উড়োজাহাজের ঝুঁকিপূর্ণ অভিজ্ঞতার গল্প শুনে তার মনে ভীতি তৈরি হয়। ফলে নিজের আগ্রহ ও দৃঢ় সিদ্ধান্তে তিনি বেছে নেন প্রযুক্তির জগৎ, বিশেষ করে সাইবার নিরাপত্তা।
নিজ উদ্যোগে তিনি পাইথন, জাভা, সি++ সহ বিভিন্ন প্রোগ্রামিং ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন এবং সাইবার সিকিউরিটিতে নিজেকে গড়ে তোলেন একজন দক্ষ পেশাজীবী হিসেবে। সময়ের সঙ্গে তার এই দক্ষতা শুধু ব্যক্তিগত অর্জনে সীমাবদ্ধ থাকেনি বরং হয়ে উঠেছে অসংখ্য মানুষের ভরসার জায়গা।
বর্তমানে তিনি ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে যেমন: সাইবার বুলিং, হ্যাকিং ও ডিজিটাল হয়রানির শিকার হওয়া মানুষদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন নিয়মিত। কারও আইডি হ্যাক হলে তা উদ্ধার করা, ভুয়া বা বিকৃত ছবি-ভিডিও অপসারণে সহায়তা করা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি এসব কাজ তিনি করে যাচ্ছেন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।
বাঁধন চৌধুরী বলেন, “ডিজিটাল দুনিয়ায় নিরাপদ থাকা এখন খুব জরুরি। মানুষ যেন ভয় না পায়, বরং সচেতন হয়ে নিজের নিরাপত্তা নিজেই নিশ্চিত করতে পারে এই লক্ষ্য নিয়েই আমি কাজ করছি।”
শুধু সমস্যার সমাধান নয়, তিনি মানুষকে শেখাচ্ছেন কীভাবে সাইবার ঝুঁকি এড়িয়ে চলতে হয়। স্মার্টফোন ব্যবহার থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সব ক্ষেত্রেই নিরাপদ থাকার কৌশল ছড়িয়ে দিচ্ছেন সাধারণ মানুষের মাঝে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৩ সাল থেকে ভারতের শীর্ষস্থানীয় অটোমোবাইল কোম্পানি Tata Motors এর সঙ্গে ৮বছর মেয়াদি সাইবার সিকিউরিটি সেবায় চুক্তিভিত্তিকভাবে কাজ করে আসছেন তিনি।
আজ তার জন্মদিনে, তার এই অসাধারণ অবদান ও মানবিক উদ্যোগ নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে নতুন প্রজন্মের জন্য। পরিবার থেকেও এখন তিনি পাচ্ছেন পূর্ণ সমর্থন, যা তার পথচলাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
ডিজিটাল যুগে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন হুমকি যখন সামনে আসছে, তখন বাঁধন চৌধুরীর মতো যুবকদের উপস্থিতি আমাদের জন্য আশার আলো। তার এই যাত্রা কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের নয় এটি এক নিঃস্বার্থ সেবার গল্প, এক দায়িত্বশীল নাগরিকের প্রতিচ্ছবি।