
স্টাফ রিপোর্টারঃ
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের খাসকান্দি মদিনাপাড়া এলাকায় সৎ মামার হাতে নির্মমভাবে খুন হওয়া ১০ বছরের শিশু আছিয়া আক্তার হত্যার সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ৮টা ২০ মিনিটে নিহত আছিয়ার শোকাহত পরিবারের খোঁজখবর নিতে ও সমবেদনা জানাতে তাদের বাড়িতে যান সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুম্পা ঘোষ। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোছা. সাজেদা সরকার, সিরাজদিখান উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম হায়দার আলী এবং বালুচর ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আলেক চাঁন সজিব।
পরিদর্শনকালে আছিয়ার বাবা-মায়ের কাছ থেকে ঘটনার বেদনাদায়ক বর্ণনা শোনেন উপস্থিত নেতৃবৃন্দ। কান্নাজড়িত কণ্ঠে পরিবারের সদস্যরা জানান, তাদের দাবি অনুযায়ী আছিয়ার সৎ ভাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এবং অপরাধের কথা স্বীকারও করেছে। তারা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
পরিবারের বক্তব্য শুনে ইউএনও রুম্পা ঘোষ গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, “এই নির্মম ঘটনাটি আমার জানা ছিল না। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই আজ সকালে আমি এখানে ছুটে এসেছি। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার অবশ্যই হবে এবং দ্রুততার সঙ্গেই হবে।”
তিনি আরও বলেন, প্রশাসন সবসময় অসহায় ও শোকগ্রস্ত পরিবারটির পাশে থাকবে। এ সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটির হাতে খাদ্যসামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।
সিরাজদিখান উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম হায়দার আলী নিহতের পরিবারকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, “এই অমানবিক হত্যাকাণ্ডের বিচার অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। পরিবারের প্রতি অনুরোধ, কোনো ধরনের লোভ-লালসা বা চাপের মুখে আপনারা বর্তমান বক্তব্য থেকে সরে যাবেন না।”
তিনি এলাকায় মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “মাদকের ভয়াবহ বিস্তারের কারণেই সমাজে এ ধরনের নৃশংস ঘটনা বাড়ছে। মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”
এ সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আলেক চাঁন সজিবসহ এলাকাবাসী হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এবং সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা কামনা করেন।
উল্লেখ্য, শিশু আছিয়া আক্তার হত্যার ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ঘটনার পর থেকে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং তারা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছেন।