
৮ বছরেও সচল হয়নি চক্ষু বিভাগ
তোফাজ্জল হোসেন শিহাব:
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের চক্ষু বিভাগ দীর্ঘ ৭ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। প্রতিনিয়ত শত শত রোগী চোখের চিকিৎসা করাতে এসে চক্ষু বিভাগ বন্ধ দেখে ফিরে যাচ্ছেন। বাধ্য হয়ে বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে চড়া মূল্যে চিকিৎসা করাতে হচ্ছে তাদের। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পদটি শূন্য থাকায় বন্ধ রয়েছে সেবা। তবে শিগগিরই চালু করার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে হাসপাতালের চক্ষু বিভাগ বন্ধ নিয়ে হাসপাতাল কতৃপক্ষের অবহেলাকেই দোষারোপ করছেন সচেতন নাগরিকরা। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার রোগী (বহির্বিভাগ) চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। গতকাল বুধবার ২৩ এপ্রিল দুপুরে হাসপাতালের চক্ষু বিভাগে গিয়েও বন্ধ থাকতে দেখা গেছে। আর চক্ষু বিভাগের যন্ত্রপাতি স্টোর রুমে পড়ে পড়ে নষ্ট হচ্ছে। সেবা নিতে আসা রোগীরা ফিরে যাচ্ছেন।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা জানান, চক্ষু বিভাগ বন্ধ রয়েছে দীর্ঘ কয়েক বছর। আমরা এসে ফিরে যাচ্ছি। বাধ্য হয়ে বাহিরে ডায়াগনোস্টিক সেন্টার কিংবা অন্যান্য সেবা প্রতিষ্ঠানে চড়াও মূল্যে চিকিৎসা নিতে হয়। এখানে চক্ষু বিভাগ চালু থাকলে তো আমাদের বাহিরে যেতে হয়না।
কামাল (৩৬) নামের এক রোগী জানান, মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের চক্ষু বিভাগ অনেক দরকার। রোগীরা খুব সহজে বিনামূল্যে এখান থেকে চিকিৎসা নিতে পারে। আমি নিজে আমার বাবার এখান থেকে চোখের অপারেশন করিয়েছিলাম।এটি বন্ধ রাখা দু:খজনক। খুব দ্রুতই চক্ষু বিভাগ পূনরায় চালুর জন্য আমরা জোর দাবি জানাই।
গোলনাহার ( ৫২) আরো জানান, “বাবারে কি আর কমু। আমাগো গরিবের কত সমস্যা। বয়স বাড়ছে। চোখে তেমন দেহিনা। অনেক বছর আগে এখানে একবার দেখাইছিলাম। এখন তো দেহাতে পারিনা। বাহিরে দেহাই। বেশি টাহা লাগে। এই হানে যদি আবারো চক্ষু বিভাগ চালু করে তাহলে আমাদের জন্য উপকার হয়।”
মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন ১৮শ/ থেকে ২ হাজার লোক সেবা নিতে আসে। সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে অনতিবিলম্বে দ্রুতই চক্ষু বিভাগ পুনরায় চালু হলে উপকৃত হবে মুন্সিগঞ্জবাসী এমনটাই দাবি সুশিল সমাজের।
এবিষয়ে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আহমেদ কবীর মুন্সিগঞ্জের বার্তাকে জানান, জেনারেল হাসপাতালের চক্ষু বিভাগটি দীর্ঘ আট বছর বন্ধ রয়েছে বিষয়টি দুঃখজনক। চক্ষু বিভাগে চিকিৎসক চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বরাবর চিঠি পাঠানো হয়েছে। চক্ষু বিভাগের চিকিৎসকের পদ রয়েছে কিন্তু চিকিৎসক নেই। অনেক পদই খালি রয়েছে। আশা করছি মন্ত্রনালয়ের সাথে কথা বলে দ্রুতই বিষয়টি সমাধানের পথ পাবে।