
সিজান খান:
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার পান চাছিনের সংখ্যা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। আর্থিক সংকট, সরকারি/ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ না পাওয়া, পান চাষের সঠিক প্রশিক্ষণ না পাওয়া, শ্রমিকের মজুরি বন্ধ, সরকারের সুদৃষ্টির অভাব ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের দাম বেশি হওয়ায় খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে পান চাষিরা। এছাড়া আপেল ও বাউকুলের ফলন হওয়া, ঘরবাড়ির সংখ্যা দিনদিন বৃদ্ধি পাওয়াসহ জমি ভরাট হওয়ায় পানের বরজের সংখ্যা প্রতিনিয়ত কমে যাচ্ছে । উপজেলা উপ সহকারী উদ্ভীদ সংরক্ষণ অফিসার মো. মোশারফ হোসেনের সাথে কথা বলে জানা যায়, এবার প্রায় ৪ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়েছে। উপজেলার রসুনিয়া, মধ্যপাড়া, বয়রাগাদি, মালখানগর, ইছাপুরা ও জৈনসার ইউনিয়নে প্রায় ৪০ টি পানের বরজ চাষ করা হয়েছে বলে জানান এ প্রতিবেদককে।
বড় পাউলদিয়া গ্রামের পান চাষি আ. হামিদ বেপারী (৭০) জানান, ৩৫ শতাংশ জমিতে ২ লক্ষ টাকা ব্যয় করে পানের বরজ দিয়েছি। এতে কোনো বছর লস হয়, কোনো বছর খেয়ে পড়ে সমান থাকে আবার কোনো বছর লাভও হয়। তিনি আরো জানান, বরজ থেকে পান সংগ্রহ করার সময় এলে পানের রং হলদে হয়ে ঝড়ে পড়ে। ফলে লোকসান গুনতে হচ্ছে পানচাষিদের।
বরাগাদী ইউনিয়নের পান চাষি আবু নাছের হাওলাদার (৫৫) জানান, আমি পান চাষ করে এক ছেলেকে সিঙ্গাপুর পাঠিয়েছি ও এক মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি । কিন্তু এবার পানে পোকা ধরায় লসের আশঙ্কা প্রকাশ করেন এ প্রতিবেদকের কাছে।
চন্দনধূল গ্রামের আ. করিম জানান, আমি পান চাষ করে অনেক লাভবান হয়েছি। তিনি আরো জানান, পান গাছের রোগ নির্ণয় ও সমাধানের জন্য কোনো বিশেষজ্ঞ নেই।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা আবু সাইদ শুভ্র জানান, এ এলাকার পান চাষিরা বিভিন্ন অঞ্চলের পান চাষ দেখে শখের বশবর্তী হয়ে পানের বরজ দিয়েছিলো। ঐতিহ্যগতভাবে বিক্রমপুরে পাচ চাষ ছিলো যা এখন বিলুপ্তির পথে। দিনদিন মজুরি বাড়ায় এ পেশায় লোক কমে গেছে। টেকনিকেল যে কাজ নতুন লোক পারছেনা। দক্ষ শ্রমিকের অভাব, উচু ভিটার অভাব, হিন্দু সম্প্রদায় যারা এ পেশায় নিয়োজিত ছিল তারা অন্য পেশায় চলে গেছে। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর হলে ভালো হবে।